সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দশকের ফ্যাশন আইকন শাহরুখ খান: ফিরে দেখা কিছু কালজয়ী স্টাইল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ Time View

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান আজ ৬১ বছরে পা দিলেন। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কেবল বক্স অফিসই শাসন করেননি, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিশীল পোশাকের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন আইকন। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র পাশের বাড়ির ছেলে থেকে শুরু করে ‘ডন’ বা ‘পাঠান’-এর দুর্ধর্ষ লুক—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নতুন নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করেছেন।

নব্বইয়ের দশকে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমায় রাজ চরিত্রের মাধ্যমে শাহরুখ তরুণদের মধ্যে চামড়ার জ্যাকেট, ডেনিম এবং বেসবল ক্যাপের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে নিয়ে যান। পশ্চিমা আধুনিকতার সঙ্গে দেশি আবেগের মিশেলে তৈরি সেই লুকটি আজও ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয়। পরবর্তী সময়ে ‘জোশ’ সিনেমায় তাঁর রুক্ষ বাইকার লুক এবং ‘ডন’-এর আধুনিক গ্যাংস্টার অবতারও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে ডন সিনেমায় তাঁর লম্বা ট্রেঞ্চ কোট ও চামড়ার গ্লাভস এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল।

ভারতে সোয়েটশার্টকে ফ্যাশনেবল করে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমার রাহুল চরিত্রের। সেই সময়ে শাহরুখের পরা ‘GAP’ লেখা সোয়েটশার্ট এবং বিশেষ পেনড্যান্ট কিশোর ও তরুণদের স্বপ্নের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। পরিচালক করণ জোহর ও ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার পরিকল্পনায় শাহরুখ নব্বই দশকের অন্যতম বড় ফ্যাশন আইকন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাহরুখের ফ্যাশনে যোগ হয় আভিজাত্য ও পরিশীলিত রূপ। ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এবং ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ সিনেমায় তাঁকে ফিটেড ব্লেজার, ট্রেঞ্চ কোট ও কালো টার্টলনেক পরতে দেখা যায়। এই পোশাকগুলোর মাধ্যমে তিনি পশ্চিমা ফ্যাশনকে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও জনপ্রিয় করে তোলেন। আবার ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ সিনেমায় লিনেনের ক্যাজুয়াল পোশাকে তাঁর উপস্থিতি ছিল একেবারেই ছিমছাম ও রুচিশীল।

বয়স বাড়লেও স্টাইলে যে ভাটা পড়েনি, তার প্রমাণ মেলে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমায়। ৫৭ বছর বয়সে লম্বা চুল, কমব্যাট বুট এবং ছেঁড়া কার্গো প্যান্টে তিনি যেন নিজের বয়সকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তাঁর এই লুক প্রমাণ করে যে, স্টাইল কেবল পোশাকের ওপর নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শাহরুখের ফ্যাশন সচেতনতা নজর কেড়েছে। ২০২৫ সালের মেট গালায় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জীর পোশাকে তাঁর উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। ভারতীয় ও পশ্চিমা ড্যান্ডি স্টাইলের সংমিশ্রণে তৈরি সেই পোশাকে শাহরুখ বিশ্বমঞ্চে নিজের তারকাখ্যাতি ও আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলেন। তিন দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় শাহরুখ খান কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নন, বরং ফ্যাশনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
75 − 70 =


About Author Information

Popular Post

অক্টোবরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি, প্রবৃদ্ধিতে পোশাক খাত

তিন দশকের ফ্যাশন আইকন শাহরুখ খান: ফিরে দেখা কিছু কালজয়ী স্টাইল

Update Time : ০৯:০২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান আজ ৬১ বছরে পা দিলেন। দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কেবল বক্স অফিসই শাসন করেননি, বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিশীল পোশাকের মাধ্যমে হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন আইকন। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র পাশের বাড়ির ছেলে থেকে শুরু করে ‘ডন’ বা ‘পাঠান’-এর দুর্ধর্ষ লুক—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নতুন নতুন স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করেছেন।

নব্বইয়ের দশকে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমায় রাজ চরিত্রের মাধ্যমে শাহরুখ তরুণদের মধ্যে চামড়ার জ্যাকেট, ডেনিম এবং বেসবল ক্যাপের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে নিয়ে যান। পশ্চিমা আধুনিকতার সঙ্গে দেশি আবেগের মিশেলে তৈরি সেই লুকটি আজও ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয়। পরবর্তী সময়ে ‘জোশ’ সিনেমায় তাঁর রুক্ষ বাইকার লুক এবং ‘ডন’-এর আধুনিক গ্যাংস্টার অবতারও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে ডন সিনেমায় তাঁর লম্বা ট্রেঞ্চ কোট ও চামড়ার গ্লাভস এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল।

ভারতে সোয়েটশার্টকে ফ্যাশনেবল করে তোলার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ সিনেমার রাহুল চরিত্রের। সেই সময়ে শাহরুখের পরা ‘GAP’ লেখা সোয়েটশার্ট এবং বিশেষ পেনড্যান্ট কিশোর ও তরুণদের স্বপ্নের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল। পরিচালক করণ জোহর ও ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার পরিকল্পনায় শাহরুখ নব্বই দশকের অন্যতম বড় ফ্যাশন আইকন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শাহরুখের ফ্যাশনে যোগ হয় আভিজাত্য ও পরিশীলিত রূপ। ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এবং ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ সিনেমায় তাঁকে ফিটেড ব্লেজার, ট্রেঞ্চ কোট ও কালো টার্টলনেক পরতে দেখা যায়। এই পোশাকগুলোর মাধ্যমে তিনি পশ্চিমা ফ্যাশনকে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে সহজবোধ্য ও জনপ্রিয় করে তোলেন। আবার ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ সিনেমায় লিনেনের ক্যাজুয়াল পোশাকে তাঁর উপস্থিতি ছিল একেবারেই ছিমছাম ও রুচিশীল।

বয়স বাড়লেও স্টাইলে যে ভাটা পড়েনি, তার প্রমাণ মেলে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পাঠান’ সিনেমায়। ৫৭ বছর বয়সে লম্বা চুল, কমব্যাট বুট এবং ছেঁড়া কার্গো প্যান্টে তিনি যেন নিজের বয়সকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তাঁর এই লুক প্রমাণ করে যে, স্টাইল কেবল পোশাকের ওপর নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শাহরুখের ফ্যাশন সচেতনতা নজর কেড়েছে। ২০২৫ সালের মেট গালায় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখার্জীর পোশাকে তাঁর উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। ভারতীয় ও পশ্চিমা ড্যান্ডি স্টাইলের সংমিশ্রণে তৈরি সেই পোশাকে শাহরুখ বিশ্বমঞ্চে নিজের তারকাখ্যাতি ও আভিজাত্য ফুটিয়ে তোলেন। তিন দশকের এই দীর্ঘ যাত্রায় শাহরুখ খান কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নন, বরং ফ্যাশনের এক জীবন্ত কিংবদন্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো