চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশের উচ্চশিক্ষায় এবার আসন সংকটের পরিবর্তে চরম শিক্ষার্থী সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও অর্ধেকের বেশি আসন খালি পড়ে থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য মোট আসন রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার। বিপরীতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৫টি আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগে ২০০৪ সালে পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮০ হাজার ২৭৫ জন এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। পাসের হারও গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে সীমিত আসনের বিপরীতে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থীর প্রধান লক্ষ্য থাকবে শীর্ষস্থানীয় পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভর্তির যোগ্যতার শর্ত শিথিল করার প্রয়োজন হতে পারে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালাম জানান, উচ্চশিক্ষায় অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকতে পারে। শিক্ষার্থী পেতে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত বাদ দিতে হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ভর্তির শর্ত শিথিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। কোন প্রতিষ্ঠান কতটুকু মান বজায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে, সেটি তাদের বিষয়।
এদিকে, উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউজিসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান সক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় শিক্ষার মান ব্যাহত হয়। অনেক কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক বা শ্রেণিকক্ষ নেই। তাই শিক্ষক ও অবকাঠামোর সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ
Reporter Name