দেশের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানিতে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে ৩৯৯ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯৪ কোটি ডলার। প্রধান তিনটি খাতের রপ্তানি বাড়ায় সামগ্রিক আয়ে এই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বরাবরের মতো রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অক্টোবরে এ খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। গত বছর অক্টোবরে পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৩০২ কোটি ডলারের।
পোশাকের পাশাপাশি পাট ও চামড়া খাতেও প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত মাসে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে কিছু খাতে রপ্তানি আয় কমেছে। কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি গত তিন মাস ধরে নিম্নমুখী। অক্টোবরে এ খাতে আয় হয়েছে ৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ কম। এছাড়া হোম টেক্সটাইল ও হিমায়িত মাছ রপ্তানিও কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে কাঁকড়া রপ্তানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে, যা প্রায় ৮১ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি ওষুধ ও রাসায়নিক পণ্য রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যে সাড়ে ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) হিসেবেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। এই সময়ে মোট ১ হাজার ৭০৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি। গত বছর এই চার মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৬১৪ কোটি ডলারের পণ্য।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name