শিশুরা সাপ বা মাকড়সা দেখে ভয় পেলেও তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ থাকতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, বন্যপ্রাণীর প্রতি ভীতি এবং প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ—এই দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই গবেষণাটি গত ৩০ অক্টোবর ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলটি যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী ২৯৫ জন শিশুর ওপর এই পর্যবেক্ষণ চালান। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা চিড়িয়াখানায় আসা ১২৪ জন এবং কঙ্গোর কিনশাসার একটি অভয়ারণ্যে আসা ১৭১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিশুদের প্রাণীর প্রতি ভীতি এবং জীববৈচিত্র্যের প্রতি আগ্রহ যাচাই করতে গবেষকরা বিভিন্ন ছবি ও মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
এতদিন প্রচলিত ‘বায়োফিলিয়া হাইপোথিসিস’ অনুযায়ী মনে করা হতো, প্রকৃতির প্রতি মানুষের আকর্ষণ সহজাত ও সর্বজনীন। তবে নতুন এই গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষকরা বলছেন, প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ সবার ক্ষেত্রে সমান নয়, বরং এটি ব্যক্তির মেজাজ ও স্বভাবের ওপর নির্ভর করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন শিশুদের তুলনায় কঙ্গোর শিশুরা লোকালয়ের আশেপাশে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি কম পছন্দ করে। কিনশাসার মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরের শিশুরা অনেক সময় বন্য পরিবেশের চেয়ে কৃত্রিম নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে মজার বিষয় হলো, যেসব শিশু সাপ বা মাকড়সা দেখে ভয় পায়, তারাও সুযোগ পেলে বাগান বা জীববৈচিত্র্যপূর্ণ স্থানে যেতে বেশ আগ্রহী থাকে।
গবেষক দলের সদস্য ভানেসা উডস ও ব্রায়ান হেয়ার জানান, ভয় ও আকর্ষণ একে অপরের বিপরীত নয়। কোনো শিশু নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীকে ভয় পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তার মধ্যে প্রকৃতি নিয়ে কৌতূহল নেই। ভয় ও প্রকৃতিপ্রেম একই সঙ্গে মানুষের মনে অবস্থান করতে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, যেহেতু প্রতিটি শিশুর প্রকৃতিপ্রীতি ভিন্ন, তাই পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে সবার জন্য একই পদ্ধতি ব্যবহার না করে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। শিশুদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name