ফুটবল ক্যারিয়ারের অনন্য অর্জন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। এই বিশেষ সম্মাননা নিতে বর্তমানে সপরিবারে স্পেনের ওভিয়েদোতে অবস্থান করছেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টার মায়ামির হয়ে ব্যস্ত মৌসুমের মাঝেই স্পেনে পা রেখেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ওভিয়েদোর রাস্তায় শত শত ভক্ত তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। নিজের দাতব্য ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদান রাখায় ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের আগে স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির স্মৃতিচারণ করেন। গত আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে মারা যান হোর্হে মেসি। মেসি জানান, তাঁর বাবা এই পুরস্কারটি নিয়ে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত ছিলেন এবং ব্যস্ততার মধ্যেও মেসি যেন এটি গ্রহণ করতে ওভিয়েদোতে আসেন, সে ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দিয়েছিলেন।
আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, “আমার বাবা এই স্বীকৃতিতে খুব খুশি হয়েছিলেন। ম্যাচ থাকায় এখানে আসা কঠিন হবে জেনেও তিনি আমাকে আসার জন্য জোর করেছিলেন। আমি নিশ্চিত, তিনিও এখন এটি উপভোগ করছেন।” বাবার সঙ্গে নিয়মিত ফুটবল ও পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনার অভ্যাসটির কথাও স্মরণ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা।
সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনায় কাটানো দীর্ঘ ২১ বছরের স্মৃতিও উঠে আসে। বার্সেলোনাকে ‘জীবনের ক্লাব’ হিসেবে অভিহিত করে মেসি বলেন, সেখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এবং অনুশীলন তিনি দারুণ উপভোগ করেছেন। কাতালান এই শহরের প্রতি তাঁর এখনো বিশেষ টান রয়েছে, কারণ এখানেই তাঁর তিন সন্তানের জন্ম এবং জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে।
ভবিষ্যতে মানুষ তাঁকে কীভাবে মনে রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, তিনি একজন পরিশ্রমী অ্যাথলেট হিসেবে পরিচিত হতে চান, যিনি সবসময় নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেছেন। ফলাফল যাই হোক না কেন, লক্ষ্য অর্জনে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। পুরস্কার হিসেবে একটি ভাস্কর্য, সনদ, পদক এবং ৫০ হাজার ইউরো প্রদান করা হয়। এর আগে সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল ও মাইকেল শুমাখারের মতো কিংবদন্তিরা এই সম্মাননা পেয়েছেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name