আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শক্তির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ঘর্ষণ ও মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের চলাফেরা ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিক বিজ্ঞানের এসব জটিল বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. আবু সুফিয়ান।
ঘর্ষণ বল মূলত একটি বাধা দানকারী শক্তি হিসেবে কাজ করে। যখন একটি বস্তু অন্য একটি তলের ওপর দিয়ে চলার চেষ্টা করে, তখন তাদের স্পর্শতলে গতির বিপরীত দিকে এই বল তৈরি হয়। এই বলের উপস্থিতির কারণেই আমরা রাস্তায় পিছলে না গিয়ে হাঁটতে পারি, কাগজে কলম দিয়ে লিখতে পারি কিংবা দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালাতে সক্ষম হই।
অন্যদিকে, পৃথিবী প্রতিটি বস্তুকে তার কেন্দ্রের দিকে যে অদৃশ্য বলের মাধ্যমে আকর্ষণ করে, তাকে মাধ্যাকর্ষণ বল বলা হয়। এই বলের প্রভাবেই আমরা পৃথিবীর বুকে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি। কোনো বস্তু ওপর থেকে ছেড়ে দিলে তা মহাশূন্যে হারিয়ে না গিয়ে সরাসরি মাটির দিকে পড়ে যাওয়ার মূল কারণও এই মাধ্যাকর্ষণ।
পৃষ্ঠের ধরন ভেদে গতির পরিবর্তন কেন হয়, তারও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই শিক্ষক। তিনি জানান, মসৃণ মেঝেতে ঘর্ষণ বল কম থাকায় কোনো বস্তু অনেক দূর পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। বিপরীতে, খেলার মাঠ বা ঘাসের মতো অমসৃণ তলে ঘর্ষণ বল বেশি হওয়ায় বস্তুর গতি দ্রুত কমে যায় এবং তা অল্প দূরত্বেই থেমে যায়।
ভারী বস্তু সরানোর ক্ষেত্রে ‘লিভার’ নামক সরল যন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সামান্য শক্তি প্রয়োগ করে বড় কোনো পাথর বা ওজন তোলার জন্য লিভার অত্যন্ত কার্যকর। এক্ষেত্রে ফালক্রাম বা ভিত্তিটি পাথরের যত কাছে রাখা হবে, কাজ তত সহজ হবে। এটি মানুষের পেশিশক্তির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বল তৈরি করতে সক্ষম।
শিক্ষার্থীদের জন্য বিজ্ঞান মেলায় এসব বিষয় প্রদর্শনের একটি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মসৃণ টাইলস ও অমসৃণ কাঠের তক্তা ব্যবহার করে ঘর্ষণের পার্থক্য এবং বিভিন্ন ওজনের বস্তু ওপর থেকে ফেলে মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাব হাতে-কলমে দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক বিষয়ের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি মনে করেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name