ভাই-বোনের মধুর সম্পর্ক এবং প্রচলিত সমাজে তাদের জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও করুণ পরিণতির গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি সামাজিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। চট্টগ্রামের জেলা শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে বর্তমানে এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী চলছে।
চলচ্চিত্রটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে দুই ভাই-বোনের আত্মিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। যেখানে দেখা যায়, চরম দারিদ্র্য ও সামাজিক অবহেলার মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকে তারা। বখাটেদের হাত থেকে রক্ষা করতে ভাই তার ছোট বোনকে অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেয়। অথচ ভাইয়ের স্বপ্ন ছিল বোনকে পড়াশোনা করিয়ে চিকিৎসক বানানো। বোনের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ভাইয়ের আপ্রাণ চেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সামাজিক প্রতিকূলতার কাছে তাকে হার মানতে হয়।
গল্পের পরবর্তী অংশে ফুটে ওঠে বিয়ের পর বোনটির দুর্বিষহ জীবন। মাদকাসক্ত স্বামী ও শাশুড়ির অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে তার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই ভাই-বোনের এই মায়ার সম্পর্কের এক হৃদয়বিদারক সমাপ্তি ঘটে।
নারী নির্মাতা নাসরিন আক্তারের পরিচালনায় এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটিতে সহ-পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন সীমান্ত বড়ুয়া। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন মো. ফয়েজ এবং সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সায়েম উদ্দীন। চলচ্চিত্রটির কাহিনী ও গীত রচনা করেছেন শাহীন চৌধুরী।
সংগীত পরিচালনায় ছিলেন সুরকার ফুয়াদ নাছির বাবু। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন শিল্পী মো. সেলিম ও তামান্না তুমি। চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুদ্র তালুকদার, রাবেয়া জামান এঞ্জেলস, পাভেল, সুনীল ধর, হেমা বড়ুয়া, মেহেদী হাসান ফয়সাল, মোশাররফ ভূঁইয়া পলাশ, গোলাম মাওলা জসীমসহ আরও অনেকে। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছে সায়ন্তী, আদ্রীয়ান, আরোহী ও কথা।
স্থানীয় এই নির্মাতাদের প্রত্যাশা, দর্শকদের উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা তাদের ভবিষ্যতে আরও মানসম্মত কাজ উপহার দিতে উৎসাহিত করবে। চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রতিভাদের এই সৃজনশীল কাজ দেখতে দর্শকদের শিল্পকলা একাডেমিতে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ
Reporter Name