রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম সিলিন্ডার সরবরাহ করছে। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার চলছে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, তার কাছে ২০০টি সিলিন্ডারের চাহিদা থাকলেও কোম্পানি থেকে পেয়েছেন মাত্র ৫০টি। একই চিত্র দেখা গেছে ধানমন্ডির শংকর এলাকার দিপু এন্টারপ্রাইজেও। সেখানে দৈনিক ৭০-৮০টি সিলিন্ডারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ২০টি।
এদিকে গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। রাজধানীর বিভিন্ন দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায়। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
সিলিন্ডারের এই সংকটের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ধর্মঘটের ডাক। ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ কয়েক দফা দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের এই ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধানমন্ডি এলাকায় চা বিক্রেতা রাইসুল ইসলাম জানান, দুই দিন গ্যাস বিক্রি বন্ধ থাকবে শুনে তিনি আগেভাগেই সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে এসেছেন। গ্যাস না পেলে তার রুটি-রুজির পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারে শুধু ১২ কেজির সিলিন্ডারই নয়, অন্যান্য ওজনের সিলিন্ডারের দামও চড়া। মোহাম্মদপুরের টিক্কাপাড়া এলাকার একটি দোকানে ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া ৫ কেজির সিলিন্ডার বোতলসহ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name