মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি: ধর্ম বনাম ঐতিহ্যের পুরনো বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই এ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এক ধরনের আদর্শিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াই মূলত ‘ধর্ম বনাম সংস্কৃতি’—এই দুই বিপরীতমুখী বয়ানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের মূলে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—এই ভূখণ্ডের আদি বাঙালি সংস্কৃতিই কি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি হবে? উল্লেখ্য যে, বাঙালির এই আদি সংস্কৃতিতে সনাতন, বৌদ্ধ এবং ইসলাম ধর্মের গভীর প্রভাব বিদ্যমান।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের চরিত্র কি কেবল তার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকের পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে—এমন একটি প্রশ্নও এই বিতর্কের সমান্তরালে অবস্থান করছে। এই দুই ভিন্ন মতাদর্শের সংঘাত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যের দেয়াল আর বিভাজনের কিছু কৃত্রিম বার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট করে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচয় কেবল ধর্মীয় বা কেবল সাংস্কৃতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন। বরং ঐতিহ্যের সমন্বয় এবং বিভাজনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণই এই সংকটের টেকসই সমাধান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
7 + 1 =


About Author Information

Popular Post

জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

জাতীয় পরিচয় ও সংস্কৃতি: ধর্ম বনাম ঐতিহ্যের পুরনো বিতর্ক নতুন করে আলোচনায়

Update Time : ০৮:০২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই এ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এক ধরনের আদর্শিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াই মূলত ‘ধর্ম বনাম সংস্কৃতি’—এই দুই বিপরীতমুখী বয়ানের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের মূলে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—এই ভূখণ্ডের আদি বাঙালি সংস্কৃতিই কি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি হবে? উল্লেখ্য যে, বাঙালির এই আদি সংস্কৃতিতে সনাতন, বৌদ্ধ এবং ইসলাম ধর্মের গভীর প্রভাব বিদ্যমান।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রের চরিত্র কি কেবল তার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম নাগরিকের পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে—এমন একটি প্রশ্নও এই বিতর্কের সমান্তরালে অবস্থান করছে। এই দুই ভিন্ন মতাদর্শের সংঘাত বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।

সম্প্রতি শিল্পকলা একাডেমিকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যের দেয়াল আর বিভাজনের কিছু কৃত্রিম বার্তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট করে তুলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পরিচয় কেবল ধর্মীয় বা কেবল সাংস্কৃতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা কঠিন। বরং ঐতিহ্যের সমন্বয় এবং বিভাজনমুক্ত সমাজ বিনির্মাণই এই সংকটের টেকসই সমাধান হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন