লিওনেল মেসি নিজে একসময় ছিলেন বিস্ময়বালক। বার্সেলোনার জার্সিতে শুরু হওয়া সেই জাদুকরী পথচলা তাঁকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। এবার সেই কিংবদন্তি ফুটবলার নিজের চোখে আগামীর ১০ জন উদীয়মান তারকাকে বেছে নিয়েছেন। ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে এই প্রতিভাবানদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রচারণার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে অ্যাডিডাস। সেখানে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা দলের সাবেক অধিনায়ক মেসি সাতজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ফুটবলারকে আগামীর তারকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, এটি ফুটবলের নতুন অধ্যায়ের শুরু এবং উদীয়মান তারকাদের পরিচিতি পর্ব।
মেসির এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ইংলিশ ফুটবলার ম্যাক্স ডাউম্যান। অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা এই কিশোরকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তালিকায় আরও আছেন মেক্সিকোর ক্লাব তিহুয়ানার তরুণ তুর্কি গিলবার্তো মোরা। গুঞ্জন রয়েছে, তাঁকে দলে ভেড়াতে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবগুলো প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
আর্জেন্টাইনদের জন্য এই তালিকায় বড় চমক বোকা জুনিয়র্সের প্লেমেকার তোমাস আরান্দা। নিজের সৃজনশীলতা ও কৌশলী ফুটবল দিয়ে তিনি এরই মধ্যে কোচ লিওনেল স্কালোনির নজর কেড়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন। ডান পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁর ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।
তালিকায় থাকা অন্য ছেলেদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের জান উজুন, ইতালির কোমো ক্লাবের হেসুস রদ্রিগেজ, নেদারল্যান্ডসের এজেড আলকমারের কেস স্মিত এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের জেভিয়ার গুজো।
মেয়েদের ফুটবলেও তিন প্রতিভাকে বেছে নিয়েছেন মেসি। তাঁরা হলেন চেলসির ক্লোয়ি সারয়, অলিম্পিক লিওঁর ব্রাজিলিয়ান তারকা জিওভান্না ওয়াকসমান এবং হামবুর্গের লোটা ফ্রিডে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই ‘মেসি +১০’ প্রচারণার আগের মৌসুমগুলোতেও অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার জায়গা পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল ও নিকো পাজের মতো খেলোয়াড়রা বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন।
মেসির তালিকায় নাম আসা মানেই নিশ্চিত সাফল্য নয়, তবে এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। অতীতে অনেক বিস্ময়বালক হারিয়ে গেলেও, এই ১০ জন আগামী দিনে ফুটবলের নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name