শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য বাস্তবধর্মী ইংরেজি শিক্ষার তাগিদ ইউল্যাবের সম্মেলনে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View

শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার ভালো ফলের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইংরেজি শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রচলিত ইংরেজি শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে একে পেশাভিত্তিক ও জীবনমুখী করা জরুরি। ইংরেজিতে দক্ষতার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারছেন না বলে সম্মেলনে বক্তারা মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘ইউল্যাব-টিইএসওএল বিডি সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইএসপি’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ইউল্যাব ও টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে ইংরেজি শিক্ষাকে নতুন করে সাজানো।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতার বড় ঘাটতি রয়েছে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে বরং পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি অপরিহার্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও পেশাগত ইংরেজি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে ডিজিটাল ইংরেজি শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রিয়েলিইংলিশ’-এর প্রধান নির্বাহী নাইজেল কিলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করা সম্ভব, যা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করবে। বছরের পর বছর ইংরেজি শিখেও কথা বলতে না পারাকে তিনি সময় ও অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, শুধু ব্যাকরণ নির্ভর শিক্ষা নয়, বরং পেশাভিত্তিক ভাষাশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কার্যকর যোগাযোগে দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতার কারণে অনেক সময় দেশের প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়েন। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি পেশাভিত্তিক ভাষাশিক্ষার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার ও তৃতীয় কোনো ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজের পরিচালক ফাহিম হাসান সাহেদ এবং টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বক্তব্য দেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ইংরেজি শিক্ষাকে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
37 − 30 =


About Author Information

Popular Post

মানবপাচার রোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় ঘাটতি দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য বাস্তবধর্মী ইংরেজি শিক্ষার তাগিদ ইউল্যাবের সম্মেলনে

Update Time : ০৮:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষার ভালো ফলের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইংরেজি শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, প্রচলিত ইংরেজি শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে একে পেশাভিত্তিক ও জীবনমুখী করা জরুরি। ইংরেজিতে দক্ষতার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারছেন না বলে সম্মেলনে বক্তারা মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) স্থায়ী ক্যাম্পাসে ‘ইউল্যাব-টিইএসওএল বিডি সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইএসপি’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। ইউল্যাব ও টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল টেকসই জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে ইংরেজি শিক্ষাকে নতুন করে সাজানো।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে দক্ষতার বড় ঘাটতি রয়েছে। এর জন্য শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে বরং পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি অপরিহার্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে কারিগরি ও পেশাগত ইংরেজি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলনের মূল প্রবন্ধে ডিজিটাল ইংরেজি শিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রিয়েলিইংলিশ’-এর প্রধান নির্বাহী নাইজেল কিলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পাঠ্যক্রম তৈরি করা সম্ভব, যা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করবে। বছরের পর বছর ইংরেজি শিখেও কথা বলতে না পারাকে তিনি সময় ও অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক মাসুমা হাবিব বলেন, শুধু ব্যাকরণ নির্ভর শিক্ষা নয়, বরং পেশাভিত্তিক ভাষাশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কার্যকর যোগাযোগে দক্ষ করে তুলতে হবে। প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ইংরেজি ভাষায় দুর্বলতার কারণে অনেক সময় দেশের প্রকৌশলীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পিছিয়ে পড়েন। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের পেশাভিত্তিক ইংরেজিতে দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি পেশাভিত্তিক ভাষাশিক্ষার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার ও তৃতীয় কোনো ভাষা শেখার ওপরও গুরুত্ব দেন।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ইউল্যাবের সেন্টার ফর ল্যাঙ্গুয়েজ স্টাডিজের পরিচালক ফাহিম হাসান সাহেদ এবং টিইএসওএল সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বক্তব্য দেন। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ইংরেজি শিক্ষাকে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো