মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় চিকিৎসক দেখাতে এসে একটি তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে দরজা আটকে দেওয়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদরের ডাকবাংলো সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির নাম নাসিম উদ্দিন (৫৫)। তিনি উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের পাতিলাসাঙ্গন গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী ও শ্বশুর তাঁকে নিয়ে ডাকবাংলো সড়ক এলাকার একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে চিকিৎসকের কাছে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি হঠাৎ দৌড়ে পালিয়ে যান এবং পাশের একটি তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন।
ছাদে উঠে নাসিম উদ্দিন অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে জুড়ী ফায়ার সার্ভিস ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁকে নিচে নামার অনুরোধ করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে ছাদের স্টিলের দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান কবিরুল ইসলাম জানান, নাসিম উদ্দিনের আচরণে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বারবার অনুরোধ করার পরও তিনি দরজা না খোলায় শেষ পর্যন্ত তা ভাঙতে হয়। তিনি আরও জানান, প্রায় দেড় বছর আগে নাসিম উদ্দিনের বসতঘরে আগুন লাগলে তিনি শৌচাগারে লুকিয়ে পড়েছিলেন। সেবারও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঝুঁকি নিয়ে তাঁকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন।
এ বিষয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাঈদ এনাম জানান, এ ধরনের আচরণ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ রোগের লক্ষণ হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝতে পারেন না, যা থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name