ভারতের সাম্প্রতিক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানবিরোধী আন্দোলনগুলোকে ‘উত্থিত ভারতের গতি রুদ্ধ করার ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। সংগঠনটির দাবি, নতুন প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ এবং বিরোধীদের এসব আন্দোলনের পেছনে ‘মার্ক্সবাদী, মাওবাদী ও ইসলামপন্থীদের’ হাত রয়েছে।
আরএসএসের মুখপত্র ‘অর্গানাইজার’-এর একটি সম্পাদকীয়তে এই মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, এসব গোষ্ঠীর ওপর ভর করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দেশে ভয়, ঘৃণা ও নৈরাজ্য ছড়াচ্ছেন, যা গান্ধীবাদের অবমাননা। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ভারতের একতা ও সংহতিকে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে।
সম্পাদকীয়তে ভারতকে দুর্বল করার চক্রান্তের উদাহরণ হিসেবে তিনটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো—আইআইটি বোম্বের এক ছাত্রের আত্মহত্যা, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং ইউপিআই লেনদেনে ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ বা এমডিআর চালুর বিরোধিতা।
আইআইটি বোম্বের ঘটনা প্রসঙ্গে আরএসএসের মুখপত্রে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ার একটি ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতপাতের রূপ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উসকে দিয়ে সরকারের প্রতি মানুষের মন বিষিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করা হয়।
একইভাবে নির্বাচন কমিশন ও ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলাকেও একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে আরএসএস। তাদের মতে, ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বজুড়ে সুনাম থাকলেও দেশে সেগুলোকে বিতর্কিত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল লেনদেন বা ইউপিআই পেমেন্টের বিরোধিতাকেও ভারতের একটি সফল ব্র্যান্ডকে ধ্বংস করার চক্রান্ত হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। দুই হাজার রুপির বেশি বাণিজ্যিক লেনদেনে চার্জ আরোপের প্রস্তাব ঘিরে চলমান আন্দোলনকে এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারতকে দুর্বল করার এই প্রক্রিয়ায় বিদেশের ভারতবিরোধী শক্তিগুলোও সক্রিয়। তারা কেবল উৎসাহ দিচ্ছে না, বরং এসব আন্দোলনে অর্থায়নও করছে বলে দাবি করেছে আরএসএস। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষুদ্র স্বার্থে এই ফাঁদে পা দিচ্ছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।
আরএসএসের মতে, গণতন্ত্রে বিক্ষোভ স্বাভাবিক হলেও গান্ধী ও আম্বেদকরের আদর্শকে ভুলভাবে ব্যবহার করে জাতপাতের ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করা এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করা।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name