মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত পার্কের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ Time View

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে এই প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম। স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উদ্যানের পাশে নবনির্মিত গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার এই স্মৃতিস্তম্ভ। এতে লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এছাড়া স্তম্ভের সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভের দেয়ালে রিলিফ ভাস্কর্যের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ভাস্কর্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
89 − 79 =


About Author Information

Popular Post

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত: বাড়ছে নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্ব

ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ ও আধুনিকায়িত পার্কের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে এই প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম। স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং উদ্যানের পাশে নবনির্মিত গ্রন্থাগারটি পরিদর্শন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার এই স্মৃতিস্তম্ভ। এতে লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এছাড়া স্তম্ভের সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভের দেয়ালে রিলিফ ভাস্কর্যের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ভাস্কর্য রয়েছে।

অন্যদিকে, ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানকে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো