বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার নতুন ‘রোডস্টার’ মডেলের গাড়িটি নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে এই গাড়িটি কেবল দ্রুতগতিতে চলতেই নয়, বরং বাতাসে ভেসে থাকতেও সক্ষম। তবে এর উড্ডয়নক্ষমতা যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করছে, তেমনি এর নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
টেসলার তথ্যমতে, রোডস্টার গাড়িটিতে স্পেসএক্সের আদলে রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে থাকা ‘কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার’ উচ্চচাপে জমা রাখা বাতাস দ্রুত বের করে দিয়ে বিপরীতমুখী বল তৈরি করে, যা গাড়িটিকে মাটি থেকে ওপরে তুলতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তির জন্য গাড়িতে কার্বন ফাইবার ওভারর্যাপড প্রেসার ভেসেল (সিওপিভি) নামক বিশেষ ট্যাংক ব্যবহার করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, গাড়িটি সারিবদ্ধভাবে রাখা কয়েকটি যানের ওপর দিয়ে লাফিয়ে যেতে সক্ষম। এছাড়া এটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে সময় নেয় এক সেকেন্ডেরও কম। তবে গাড়িটি দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে পারবে কি না, সে বিষয়ে টেসলা এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে যানজট এড়াতে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, গাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে আপাতত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। টেসলার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রকেট থ্রাস্টারযুক্ত সংস্করণটি সাধারণ সড়কে চলাচলের জন্য অনুমোদিত নয়। মূলত নির্দিষ্ট কিছু সড়কের ওপর ভিত্তি করে এর উপযোগিতা নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গাড়ির থ্রাস্টার থেকে নির্গত বাতাসের ধাক্কা অত্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে, যা প্রায় ৯ টন ওজনের কোনো বস্তুর আঘাতের সমান। এর ফলে আশপাশে থাকা মানুষ গুরুতর আহত হতে পারেন। এমনকি থ্রাস্টারের বাতাসে রাস্তার ধুলোবালি বা পাথর বুলেটের মতো ছিটকে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। এছাড়া মাঝ-আকাশে ভারসাম্য রক্ষায় চালকের জন্য রোলার কোস্টারের মতো বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রোডস্টারের তিনটি সংস্করণ বাজারে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ‘রকেট’ সংস্করণে ১০টি থ্রাস্টার থাকলেও এতে কেবল একজন বসতে পারবেন। ‘থ্রাস্ট’ সংস্করণটি দুই আসনবিশিষ্ট এবং সীমিত পরিসরে বাজারজাত করা হবে। আর সাধারণ সড়কের উপযোগী ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণে কোনো রকেট থ্রাস্টার থাকবে না। ২০২৮ সাল থেকে এই গাড়ির উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name