মানুষের আদি সম্পর্ক হলো স্বামী ও স্ত্রীর। আদি পিতা আদম (আ.) ও মা হাওয়া (আ.)-এর মাধ্যমে এই সম্পর্কের সূচনা। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, পরকালে জান্নাতবাসীদের কেউ সঙ্গীহীন থাকবেন না। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জান্নাতে জীবনসঙ্গীদের অবস্থান ও মিলন নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।
পবিত্র কোরআনের সুরা জুখরুফের ৭০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের তাদের জীবনসঙ্গীসহ আনন্দচিত্তে জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছেন। বিখ্যাত মুফাসসির ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) এ বিষয়ে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীতে যারা ইমানদার দম্পতি হিসেবে ছিলেন, তারা জান্নাতেও একে অপরের সঙ্গী হবেন।
এছাড়া পার্থিব জীবনে কোনো বিশ্বাসী মানুষ যদি কাউকে পছন্দ করার পরও সামাজিক বা বৈধ কোনো কারণে বিয়ে করতে না পারেন, তবে জান্নাতে আল্লাহ তাদের সেই মিলন ঘটিয়ে দিতে পারেন। আবার কাউকে বিশেষ স্বর্গীয় সঙ্গীও দান করা হতে পারে।
পার্থিব জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক সময় রাগ, অভিমান বা মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। তবে জান্নাতে প্রবেশের আগেই মানুষের অন্তর থেকে সব ধরনের তিক্ততা ও ক্ষোভ দূর করে দেওয়া হবে। সুরা হিজরের ৪৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, জান্নাতবাসীদের অন্তরের সব অনৈক্য দূর করে তাদের ভাই ভাই হিসেবে আসীন করা হবে। ফলে সেখানে কোনো পুরোনো অভিমান অবশিষ্ট থাকবে না।
জান্নাতে দাম্পত্য সম্পর্কের একটি বিশেষ দিক হলো সৌন্দর্যের চিরনবীনতা। সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, জান্নাতবাসীরা প্রতিবার যখন তাদের জীবনসঙ্গীর মুখোমুখি হবেন, তখন একে অপরের রূপ-সৌন্দর্য আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি দেখতে পাবেন। এই আকর্ষণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমবে না বরং বৃদ্ধি পাবে।
নারীদের পুরস্কারের বিষয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মত হলো, জান্নাতে কোনো অপূর্ণতা থাকবে না। একজন নারী জান্নাতে যেমন সঙ্গী কামনা করবেন, তেমনই লাভ করবেন। ইমাম ইবনুল কাইয়িম উল্লেখ করেছেন, পার্থিব পুণ্যবতী নারীদের মর্যাদা ও সৌন্দর্য জান্নাতের হুরদের চেয়েও বেশি হবে। কারণ তারা পৃথিবীতে প্রতিকূলতার মাঝেও ইমান ও ইবাদত রক্ষা করেছিলেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name