মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১ হাজার শয্যায় আড়াই হাজার রোগী: জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ Time View

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ধারণক্ষমতার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রে শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর, বাগেরহাট ও শরীয়তপুরের রোগীরাও আসেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন ভবনের ওয়ার্ড, বারান্দা এমনকি চলাচলের পথেও বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। শৌচাগারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও জনবল কাঠামো এখনো ৫০০ শয্যার রয়ে গেছে। চিকিৎসকের ৩২৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯৪টিই শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির পদের ৪৭ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির অর্ধেকের বেশি পদ খালি থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগীর বিপরীতে মাত্র ৫৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।

জনবল সংকটের পাশাপাশি সরঞ্জামের ঘাটতিও প্রকট। ২ হাজার ৫০০ রোগীর জন্য সচল ট্রলি আছে মাত্র ৯ থেকে ১০টি। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের ওয়ার্ডে নিতে বা পরীক্ষা করাতে স্বজনদেরই কোলে করে বা স্ট্রেচার ঠেলে নিতে হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (সিসিএম) ইউনিট ও ক্যাথল্যাব না থাকায় হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকা পাঠাতে হয়।

হাসপাতালের নতুন পাঁচতলা ভবনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অস্ত্রোপচার ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে জেনারেটরও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক দুর্গা প্রসাদ সরকার জানান, নিয়মিত চিকিৎসকরা চলে যাওয়ার পর বিকেল থেকে ইন্টার্নরাই মূলত ভরসা। রোগীর বিপুল চাপ সামলাতে আরও চিকিৎসক প্রয়োজন। জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, পুরোনো অবকাঠামো ও জনবল সংকট সত্ত্বেও তারা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
2 + 7 =


About Author Information

Popular Post

১ হাজার শয্যায় আড়াই হাজার রোগী: জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল

১ হাজার শয্যায় আড়াই হাজার রোগী: জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল

Update Time : ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ধারণক্ষমতার চেয়ে আড়াই গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ১ হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ রোগী ভর্তি থাকছেন। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রে শুধু বরিশাল বিভাগ নয়, পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর, বাগেরহাট ও শরীয়তপুরের রোগীরাও আসেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ও নতুন ভবনের ওয়ার্ড, বারান্দা এমনকি চলাচলের পথেও বিছানা পেতে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। শৌচাগারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্গন্ধে রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলেও জনবল কাঠামো এখনো ৫০০ শয্যার রয়ে গেছে। চিকিৎসকের ৩২৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯৪টিই শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির পদের ৪৭ শতাংশ এবং চতুর্থ শ্রেণির অর্ধেকের বেশি পদ খালি থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগীর বিপরীতে মাত্র ৫৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন।

জনবল সংকটের পাশাপাশি সরঞ্জামের ঘাটতিও প্রকট। ২ হাজার ৫০০ রোগীর জন্য সচল ট্রলি আছে মাত্র ৯ থেকে ১০টি। ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের ওয়ার্ডে নিতে বা পরীক্ষা করাতে স্বজনদেরই কোলে করে বা স্ট্রেচার ঠেলে নিতে হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (সিসিএম) ইউনিট ও ক্যাথল্যাব না থাকায় হৃদরোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকা পাঠাতে হয়।

হাসপাতালের নতুন পাঁচতলা ভবনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অস্ত্রোপচার ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে জেনারেটরও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক দুর্গা প্রসাদ সরকার জানান, নিয়মিত চিকিৎসকরা চলে যাওয়ার পর বিকেল থেকে ইন্টার্নরাই মূলত ভরসা। রোগীর বিপুল চাপ সামলাতে আরও চিকিৎসক প্রয়োজন। জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান জানান, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, পুরোনো অবকাঠামো ও জনবল সংকট সত্ত্বেও তারা রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো