শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহে জাপানি ফল পার্সিমন চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা স্বপন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ Time View

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন স্বপন। উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজের এক বিঘা জমিতে এই ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। তার বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা ও হলুদাভ রঙের আকর্ষণীয় পার্সিমন।

উদ্যোক্তা স্বপন জানান, দুই বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৮০টি চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও ১০০টি চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তার বাগানে ফুয়ু, সুইট তাইকাওয়াসী, জিরো, চিকেন হার্ট, বিগ মোপান ও হাচিয়া—এই ছয়টি জাতের পার্সিমন গাছ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি জাতের গাছেই এবার আশানুরূপ ফলন এসেছে।

দেখতে অনেকটা টমেটোর মতো হলেও পার্সিমন অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি একটি ফল। স্বপন দাবি করেন, তার বাগানের অধিকাংশ ফলই কষমুক্ত। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে বর্তমানে প্রতি কেজি পার্সিমন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এই ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে স্বপন জানান, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০টি চারা রোপণ করা সম্ভব। অন্যান্য ফলের মতো সাধারণ পরিচর্যার পাশাপাশি এই গাছে জৈব সারের ব্যবহার বেশি করতে হয়। এছাড়া ছত্রাক ও জাবপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় দমনে নিয়মিত বালাইনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলার কালীগঞ্জ ছাড়াও কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে কয়েকজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পার্সিমন চাষ করছেন। সরকারিভাবে এখনো এই ফলের জাত উন্নয়ন বা সম্প্রসারণের কাজ শুরু না হলেও কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া পার্সিমন চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক জাত নির্বাচন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
30 + = 39


About Author Information

Popular Post

ঝিনাইদহে জাপানি ফল পার্সিমন চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা স্বপন

ঝিনাইদহে জাপানি ফল পার্সিমন চাষে সফল কৃষি উদ্যোক্তা স্বপন

Update Time : ০৮:০২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন স্বপন। উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে নিজের এক বিঘা জমিতে এই ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। তার বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে কমলা ও হলুদাভ রঙের আকর্ষণীয় পার্সিমন।

উদ্যোক্তা স্বপন জানান, দুই বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৮০টি চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও ১০০টি চারা রোপণ করেন। বর্তমানে তার বাগানে ফুয়ু, সুইট তাইকাওয়াসী, জিরো, চিকেন হার্ট, বিগ মোপান ও হাচিয়া—এই ছয়টি জাতের পার্সিমন গাছ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি জাতের গাছেই এবার আশানুরূপ ফলন এসেছে।

দেখতে অনেকটা টমেটোর মতো হলেও পার্সিমন অত্যন্ত সুস্বাদু ও মিষ্টি একটি ফল। স্বপন দাবি করেন, তার বাগানের অধিকাংশ ফলই কষমুক্ত। দেশের বিভিন্ন সুপারশপে বর্তমানে প্রতি কেজি পার্সিমন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের এই ফল চাষে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ বাড়ছে।

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে স্বপন জানান, এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০টি চারা রোপণ করা সম্ভব। অন্যান্য ফলের মতো সাধারণ পরিচর্যার পাশাপাশি এই গাছে জৈব সারের ব্যবহার বেশি করতে হয়। এছাড়া ছত্রাক ও জাবপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড় দমনে নিয়মিত বালাইনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানান, জেলার কালীগঞ্জ ছাড়াও কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে কয়েকজন উদ্যোক্তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে পার্সিমন চাষ করছেন। সরকারিভাবে এখনো এই ফলের জাত উন্নয়ন বা সম্প্রসারণের কাজ শুরু না হলেও কৃষি বিভাগ থেকে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া পার্সিমন চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক জাত নির্বাচন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে এই ফল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ