বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়াদ শেষ হচ্ছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির: আলোচনায় ভবিষ্যৎ রূপরেখা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ Time View

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির সময়সীমা ফুরিয়ে আসায় এর ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশের কৃষি, জনজীবন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই নদীর প্রবাহ সরাসরি ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে গঙ্গার পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর অধিকাংশেরই উৎস দেশের সীমানার বাইরে। ফলে উজানের দেশগুলোতে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পানি প্রত্যাহারের প্রভাব সরাসরি ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো চুক্তি হবে নাকি বর্তমান চুক্তিরই নবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা পয়েন্টে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই চুক্তির আলোকেই গঙ্গার পানি বণ্টন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
5 + 2 =


About Author Information

Popular Post

সচল হয়েছে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক, ৩০ ব্যাংকের গ্রাহকদের লেনদেন স্বাভাবিক

মেয়াদ শেষ হচ্ছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির: আলোচনায় ভবিষ্যৎ রূপরেখা

Update Time : ০৮:০২:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদী এই চুক্তির সময়সীমা ফুরিয়ে আসায় এর ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য গঙ্গার পানি বণ্টন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দেশের কৃষি, জনজীবন, খাদ্যনিরাপত্তা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এই নদীর প্রবাহ সরাসরি ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে গঙ্গার পানি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ভৌগোলিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোর অধিকাংশেরই উৎস দেশের সীমানার বাইরে। ফলে উজানের দেশগুলোতে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পানি প্রত্যাহারের প্রভাব সরাসরি ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৬ সালের চুক্তিটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের কৃষি ও জীববৈচিত্র্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সেচ কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে, যা সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কোনো চুক্তি হবে নাকি বর্তমান চুক্তিরই নবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা পয়েন্টে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই চুক্তির আলোকেই গঙ্গার পানি বণ্টন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন