মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও মিতব্যয়িতা বজায় রাখা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। শক্তি, সম্পদ কিংবা সময়—সব ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা অবলম্বনকে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির পথ হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোনো বিষয়েই চরমপন্থা বা সীমালঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে অপচয় ও কৃপণতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারায় মুসলিম উম্মাহকে ‘মধ্যপন্থী জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া সুরা ইসরায় আত্মীয়স্বজন ও অভাবগ্রস্তদের হক আদায়ের পাশাপাশি অপব্যয় না করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে অপব্যয়কারীকে ‘শয়তানের ভাই’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
ব্যয় করার ক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশনা হলো—একেবারে হাত গুটিয়ে রাখা যাবে না, আবার সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে মুক্তহস্তে ব্যয় করে নিঃস্ব হওয়াও যাবে না। সুরা ফুরকানে বলা হয়েছে, আল্লাহর প্রকৃত বান্দা তারাই, যারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে অপচয় বা কৃপণতা না করে মধ্যবর্তী পথ অনুসরণ করেন।
ব্যক্তিগত আচরণ ও চলাফেরার ক্ষেত্রেও সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। অহংকার ও লোকদেখানো কাজ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি নম্রভাবে চলাফেরা এবং নিচু স্বরে কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সুরা লোকমানে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের আল্লাহ পছন্দ করেন না বলে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহতেও মিতব্যয়িতার গুরুত্ব অপরিসীম। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, প্রবহমান নদীর তীরে বসে অজু করার সময়ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা অপচয়। নবীজি (সা.) আরও জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি পরিমিত ব্যয় করে, সে কখনো নিঃস্ব হয় না। অর্থাৎ মিতব্যয়িতা মানুষকে অনটন থেকে রক্ষা করে।
ইবাদত কবুলের জন্য হালাল উপার্জন একটি অপরিহার্য শর্ত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হালাল উপার্জনের সন্ধান করা অন্যান্য ফরজের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পরকালে হিসাব-নিকাশের দিনে পাঁচটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, যার মধ্যে অন্যতম হলো—সম্পদ কোন পথে আয় করা হয়েছে এবং কোন পথে ব্যয় করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name