বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান: ১১০০ পরিবার ঘরছাড়া, ভাঙা হলো ১০ মসজিদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ Time View

ভারতের আসাম রাজ্যে বনভূমি উদ্ধারের নামে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত দুই দিনে রাজ্যের তিনটি জেলায় ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারের অধিকাংশেই বাংলাভাষী মুসলিম।

অভিযান চলাকালে অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর আগের দিন শনিবার নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইতে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবারসহ মোট ৫৪৭টি পরিবারকে তাদের বসতভিটা থেকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আব্দুল নূর নামে এক বাসিন্দা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ আমলের ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৪ সালে তাদের এই জমিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।

এর আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টে এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে বাসিন্দাদের ৩০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই এই অভিযান শুরু করে আসাম সরকার।

আসাম সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি জবরদখলমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, উচ্ছেদ হওয়াদের বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আসামে গত এক দশকে বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব উচ্ছেদ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের মধ্যে বড় একটি অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
− 4 = 2


About Author Information

Popular Post

বিশ্বম্ভরপুরে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ

আসামে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান: ১১০০ পরিবার ঘরছাড়া, ভাঙা হলো ১০ মসজিদ

Update Time : ০৮:০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যে বনভূমি উদ্ধারের নামে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। গত দুই দিনে রাজ্যের তিনটি জেলায় ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া এসব পরিবারের অধিকাংশেই বাংলাভাষী মুসলিম।

অভিযান চলাকালে অন্তত ১০টি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর আগের দিন শনিবার নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইতে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবারসহ মোট ৫৪৭টি পরিবারকে তাদের বসতভিটা থেকে সরিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। আব্দুল নূর নামে এক বাসিন্দা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা ব্রিটিশ আমলের ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৭৪ সালে তাদের এই জমিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল।

এর আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টে এই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার স্বার্থে বাসিন্দাদের ৩০ দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতেই এই অভিযান শুরু করে আসাম সরকার।

আসাম সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি ও বনাঞ্চলীয় জমি জবরদখলমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, উচ্ছেদ হওয়াদের বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।

দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আসামে গত এক দশকে বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব উচ্ছেদ অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়াদের মধ্যে বড় একটি অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ