প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মানুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা প্রতিবন্ধকতা থাকা উচিত নয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্র সবার জন্য সমান।
সকালে সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে তারাগঞ্জের চৌপথি এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি বলেন, এ দেশের মাটিতেই সব ধর্মের মানুষের বেড়ে ওঠা। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—পরিচয় যাই হোক না কেন, এ দেশের ওপর সবার সমান অধিকার রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
রংপুর মহানগরের পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত অন্য একটি পথসভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। সেই সম্মিলিত সংগ্রামের ফসল এই বাংলাদেশ। সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী রংপুর মহানগরের প্রেসক্লাব চত্বর সংলগ্ন ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মন্দির কমিটির সহসভাপতি পার্থ বোস প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কোনো প্রধানমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসার ঘটনা তাঁদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও অনুপ্রেরণার।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে রাস্তার দুই পাশে সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name