ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ঐতিহাসিক শহর ময়মনসিংহ এখন আর কেবল একটি জেলা শহর নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা জনসংখ্যা আর অপরিকল্পিত নগরায়ন শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও টেকসই নগরী গড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ছয় হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার চাপে আবাসন, যাতায়াত ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কৃষিজমি ও জলাশয় দখল করে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত স্থাপনাগুলো শহরের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরটির অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে শহরের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে পানি সরতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এই সংকট নিরসনে কেবল ড্রেন নির্মাণ নয়, বরং পুরো নগরের জন্য একটি সমন্বিত জলপ্রবাহ পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক) কেবল ভবনের নকশা অনুমোদন নয়, বরং আগামী ২০-৩০ বছরের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব পেয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করা হবে। তবে বর্তমানে সংস্থাটি জনবল সংকট ও নিজস্ব কার্যালয়ের অভাবে জেলা গণপূর্ত ভবনের একটি কক্ষে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে একটি আধুনিক উপশহর গড়ে তোলার প্রস্তাবনা রয়েছে। যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো সব নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। পুরোনো শহরকে আরও জনাকীর্ণ না করে পরিকল্পিত এই সম্প্রসারণ ময়মনসিংহের চেহারা বদলে দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের নথিতে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহের জন্য বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০৫০ সালকে সামনে রেখে নতুন বাস্তবতায় জিআইএস ও স্যাটেলাইট ইমেজের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি কার্যকর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name