যশোরে ষষ্ঠী বিহীত পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার সকালে বেলতলায় বোধনের মাধ্যমে দেবীর আবাহন ও ষষ্ঠী তিথির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। জেলার আটটি উপজেলায় এবার মোট ৭৪৬টি মন্দির ও মণ্ডপে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ১৭০টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে সদর উপজেলায়। এছাড়া অভয়নগরে ১৩৩টি, মনিরামপুরে ১৩১টি, কেশবপুরে ১০২টি, বাঘারপাড়ায় ৯২টি, ঝিকরগাছায় ৬১টি, চৌগাছায় ৫৩টি এবং শার্শায় ৩২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই উৎসব শেষ হবে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকার ২৯টি এবং শহরের ২০টি মণ্ডপে তারা বিশেষ টহল ও নজরদারি চালাচ্ছে। বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের আওতায় মোট ২২২টি মণ্ডপের নিরাপত্তায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প, এপিসি প্লাটুন ও ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ শহরের লালদিঘীর পাড়ে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে। সেখান থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ০১৭১১৩২৫০৮০ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
মণ্ডপগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ২৪ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম প্রবীণদের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে উসকানিমূলক গান বাজানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিপংকর দাস রতন ও সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষ জানান, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে একটি সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তারা আশাবাদী। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ
Reporter Name