সন্তানকে স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিটি অভিভাবকই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। সাধারণত যেসব শিক্ষক বা পরিচিত মানুষের কাছে সন্তানদের রেখে আসা হয়, তাদের ওপর অগাধ বিশ্বাস থাকে পরিবারের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে শিশুদের নিরাপত্তা ও তাদের মানসিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।
অভিভাবকদের প্রত্যাশা থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরিচিত পরিবেশে সন্তানরা নিরাপদ থাকবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ সুগম হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সেই পরিচিত পরিবেশেই শিশুরা অনিরাপদ বোধ করছে। বিশেষ করে পরিচিত কারও আচরণে ভয় পেলে বা নেতিবাচক অভিজ্ঞতার শিকার হলে শিশুরা তা সহজে প্রকাশ করতে পারে না।
শিশুরা যখন তাদের ভয়ের কথা বা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারে না, তখন বিষয়টি কেবল অপরাধের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি তাদের মানসিক বিকাশেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিচিত মানুষের প্রতি বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা শিশুদের জন্য আরও বেশি আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকদের একটি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। সন্তান যেন যেকোনো সমস্যার কথা নির্ভয়ে বাবা-মাকে জানাতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে, সন্তান কোথায় কেমন থাকছে বা কার সঙ্গে মিশছে, সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শিশুদের জন্য একটি শিশুবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো শিশু যদি কোনো কারণে আতঙ্কিত বোধ করে, তবে তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
Reporter Name