চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার গ্রামীণ জনপদে সাইকেলের বেল বাজিয়ে এখনো ছুটে চলেন আলী আকবর। কাঁধে বা সাইকেলের ঝুড়িতে পাটের বস্তাভর্তি চিঠিপত্র নিয়ে এক ডাকঘর থেকে অন্য ডাকঘরে যাওয়ার এই দৃশ্য গত ২৮ বছর ধরে অপরিবর্তিত। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘রানার আকবর’ নামেই পরিচিত।
আলী আকবর ১৯৯৯ সালে ডাক বিভাগে ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে যোগ দেন। তবে এলাকায় তিনি রানার হিসেবেই বেশি পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিদিন সকালে আনোয়ারা উপজেলা ডাকঘর থেকে চিঠির বোঝা নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। চার কিলোমিটার দূরের তৈলার দ্বীপ শাখা ডাকঘরসহ বিভিন্ন গন্তব্যে সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছে দেন গুরুত্বপূর্ণ সব দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত চিঠিপত্র।
বয়স এখন পঞ্চাশের কাছাকাছি। দীর্ঘ এই কর্মজীবনে সাইকেলই ছিল তার নিত্যসঙ্গী। এই চাকরির আয় দিয়েই তিনি পাঁচ ছেলেমেয়ের ভরণপোষণ ও পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন এবং ছেলেদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন। বড় ছেলে ব্যবসা করছেন এবং মেজ ও ছোট ছেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আলী আকবর জানান, আগের মতো এখন আর মানুষ চিঠির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে না। ব্যক্তিগত চিঠির চেয়ে এখন দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও নথিপত্রই বেশি আসে। তবে বয়সের কারণে দীর্ঘ পথ সাইকেল চালানো এখন তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। একটি মোটরসাইকেল থাকলে তার কাজ আরও সহজ হতো বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’। এই বিশেষ দিনেও আকবরের মতো কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আধুনিকায়নের ছোঁয়া এখনো সব জায়গায় পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মো. শফিউল আরেফিন জানান, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন ও ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে গত বছরের শুরুতে সারা দেশে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাইক সরবরাহ করা হয়েছে। ডাক বিভাগের সেবার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
Reporter Name