মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্রের উদীচী ঘাট: চরাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন আর জীবিকার সেতুবন্ধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ Time View

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন আবর্তিত হচ্ছে শত শত মানুষের জীবন ও জীবিকা। ভোরের আলো ফোটার আগেই চরাঞ্চলের কৃষকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে এই ঘাট। ওপার থেকে টাটকা শাকসবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে এপারে আসার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের জীবনযুদ্ধের প্রাত্যহিক লড়াই।

চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া, বেগুনসহ নানা ধরনের মৌসুমি সবজি বাঁশের ডালা বা বস্তায় ভরে নৌকায় করে নিয়ে আসেন কৃষকরা। তাদের লক্ষ্য থাকে দ্রুততম সময়ে স্থানীয় বাজারে বা পরিচিত ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। অনেকের কাছে এই নদ পারাপার কেবল যাতায়াত নয়, বরং টিকে থাকার এক অনিবার্য মাধ্যম।

উদীচী ঘাটটি মূলত দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে এক নিবিড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। নদীর এক পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্যস্ততা, আর অন্য পাশে চরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক জীবন। এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। যাতায়াতের এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে মাঝি ও ঘাট শ্রমিকসহ বেশ কিছু পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই ঘাট ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও আশপাশের খাবারের দোকানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন নদীর ওপার থেকে যাতায়াত করেন। ফলে ঘাটটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

দিনের ব্যস্ততা শেষে বিকেলে ঘাটের চিত্র বদলে যায় ভিন্ন আঙ্গিকে। নদীর শান্ত পরিবেশ ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ঘোরাঘুরির জন্য এটি একটি জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অবসর সময় কাটাতে এখানে আসেন।

দর্শনার্থীদের এই আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট খাবারের দোকান। ফুচকা, চটপটিসহ নানা মুখরোচক খাবারের এসব দোকানে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকে। এতে করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের পথ সুগম হয়েছে।

প্রকৃতি ও মানুষের এই মিতালিতে ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাটটি কেবল একটি পারাপারের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ আর বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষী।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
81 + = 85


About Author Information

Popular Post

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১ নভেম্বর

ব্রহ্মপুত্রের উদীচী ঘাট: চরাঞ্চলের কৃষকের স্বপ্ন আর জীবিকার সেতুবন্ধ

Update Time : ০৭:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন আবর্তিত হচ্ছে শত শত মানুষের জীবন ও জীবিকা। ভোরের আলো ফোটার আগেই চরাঞ্চলের কৃষকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর হয়ে ওঠে এই ঘাট। ওপার থেকে টাটকা শাকসবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে এপারে আসার মাধ্যমে শুরু হয় তাদের জীবনযুদ্ধের প্রাত্যহিক লড়াই।

চরাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া, বেগুনসহ নানা ধরনের মৌসুমি সবজি বাঁশের ডালা বা বস্তায় ভরে নৌকায় করে নিয়ে আসেন কৃষকরা। তাদের লক্ষ্য থাকে দ্রুততম সময়ে স্থানীয় বাজারে বা পরিচিত ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া। অনেকের কাছে এই নদ পারাপার কেবল যাতায়াত নয়, বরং টিকে থাকার এক অনিবার্য মাধ্যম।

উদীচী ঘাটটি মূলত দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে এক নিবিড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। নদীর এক পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ব্যস্ততা, আর অন্য পাশে চরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক জীবন। এই দুইয়ের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ। যাতায়াতের এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে মাঝি ও ঘাট শ্রমিকসহ বেশ কিছু পরিবারের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই ঘাট ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও আশপাশের খাবারের দোকানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ প্রতিদিন নদীর ওপার থেকে যাতায়াত করেন। ফলে ঘাটটি স্থানীয় কর্মসংস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

দিনের ব্যস্ততা শেষে বিকেলে ঘাটের চিত্র বদলে যায় ভিন্ন আঙ্গিকে। নদীর শান্ত পরিবেশ ও নির্মল বাতাস উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ঘোরাঘুরির জন্য এটি একটি জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অবসর সময় কাটাতে এখানে আসেন।

দর্শনার্থীদের এই আনাগোনাকে কেন্দ্র করে ঘাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট খাবারের দোকান। ফুচকা, চটপটিসহ নানা মুখরোচক খাবারের এসব দোকানে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় থাকে। এতে করে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের পথ সুগম হয়েছে।

প্রকৃতি ও মানুষের এই মিতালিতে ব্রহ্মপুত্র নদের উদীচী ঘাটটি কেবল একটি পারাপারের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ আর বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের এক জীবন্ত সাক্ষী।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো