শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে পছন্দের গান, গবেষণায় মিলল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ Time View

খাওয়ার সময় পাশে পছন্দের গান বাজলে খাবারের স্বাদ কি আসলেই বেড়ে যায়? দীর্ঘদিনের এই কৌতূহলের এবার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকরা। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, সংগীতের সঙ্গে স্বাদের একটি গভীর জৈবিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে।

বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাদ কেবল খাবারের নিজস্ব কোনো গুণ নয়; বরং এটি একটি অনুভূতি যা মস্তিষ্কের মাধ্যমে তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, খাবার খাওয়া একটি বহু-ইন্দ্রিয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা। এতে জিহ্বার পাশাপাশি গন্ধ, দৃষ্টি, স্পর্শ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের সমন্বিত ভূমিকা থাকে।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণে এমআরআই ও এফএমআরআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্ক্যান চলাকালীন তাঁদের কানে বিভিন্ন ধরনের সংগীত বাজানো হয় এবং একই সঙ্গে জিহ্বায় মিষ্টি বা টক স্বাদের দ্রবণ দেওয়া হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু স্বাদ নেওয়ার তুলনায় গান শোনার সময় মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে উচ্চ সুরের বা উচ্চ পিচের সংগীত খাবারের মিষ্টির অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, পছন্দের সংগীত শোনার সময় খাবার গ্রহণ করা তাঁদের কাছে অনেক বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়েছে।

গবেষকরা মনে করছেন, এই নতুন জ্ঞান রেস্তোরাঁ, ক্যানটিন বা হাসপাতালের মতো জায়গাগুলোতে খাবারের মান ও অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব রোগীর খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে বা যাঁদের স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সঠিক সংগীত পরিবেশন করে খাওয়ার রুচি বাড়ানো সম্ভব।

এছাড়া খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান যোগ না করেই কেবল শব্দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মিষ্টির অনুভূতি বজায় রাখা সম্ভব বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কান ও জিহ্বা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে খাবারকে আরও সুস্বাদু করে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
+ 72 = 75


About Author Information

Popular Post

খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে পছন্দের গান, গবেষণায় মিলল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে পছন্দের গান, গবেষণায় মিলল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

Update Time : ০৮:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

খাওয়ার সময় পাশে পছন্দের গান বাজলে খাবারের স্বাদ কি আসলেই বেড়ে যায়? দীর্ঘদিনের এই কৌতূহলের এবার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকরা। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, সংগীতের সঙ্গে স্বাদের একটি গভীর জৈবিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে।

বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাদ কেবল খাবারের নিজস্ব কোনো গুণ নয়; বরং এটি একটি অনুভূতি যা মস্তিষ্কের মাধ্যমে তৈরি হয়। গবেষকদের মতে, খাবার খাওয়া একটি বহু-ইন্দ্রিয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা। এতে জিহ্বার পাশাপাশি গন্ধ, দৃষ্টি, স্পর্শ ও শ্রবণেন্দ্রিয়ের সমন্বিত ভূমিকা থাকে।

গবেষণাটি পরিচালনার জন্য ৪৮ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণে এমআরআই ও এফএমআরআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। স্ক্যান চলাকালীন তাঁদের কানে বিভিন্ন ধরনের সংগীত বাজানো হয় এবং একই সঙ্গে জিহ্বায় মিষ্টি বা টক স্বাদের দ্রবণ দেওয়া হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, শুধু স্বাদ নেওয়ার তুলনায় গান শোনার সময় মস্তিষ্কের স্বাদ প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলো অনেক বেশি সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে উচ্চ সুরের বা উচ্চ পিচের সংগীত খাবারের মিষ্টির অনুভূতি বাড়িয়ে দিতে পারে। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, পছন্দের সংগীত শোনার সময় খাবার গ্রহণ করা তাঁদের কাছে অনেক বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়েছে।

গবেষকরা মনে করছেন, এই নতুন জ্ঞান রেস্তোরাঁ, ক্যানটিন বা হাসপাতালের মতো জায়গাগুলোতে খাবারের মান ও অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব রোগীর খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে বা যাঁদের স্বাদ নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সঠিক সংগীত পরিবেশন করে খাওয়ার রুচি বাড়ানো সম্ভব।

এছাড়া খাবারে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম উপাদান যোগ না করেই কেবল শব্দের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে মিষ্টির অনুভূতি বজায় রাখা সম্ভব বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কান ও জিহ্বা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে খাবারকে আরও সুস্বাদু করে তুলতে পারে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো