শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের আনাগোনা আর চারদিকে কাশফুলের শুভ্রতা নড়াইলের প্রকৃতিতে এক অনন্য রূপ এনে দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদী ও বিলের পাড় ছাপিয়ে এখন নড়াইল শহরের মহিষখোলা এলাকার বালুর মাঠ হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রধান আকর্ষণ।
প্রতিদিন বিকেলের দিকে এই বালুর মাঠে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শরতের বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে ছুটে আসছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে আসছেন এই প্রাকৃতিক পরিবেশে।
দর্শনার্থীদের অনেকেই এই মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। শহরের যান্ত্রিকতা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে অনেকেই এই খোলা প্রান্তরে সময় কাটাতে পছন্দ করছেন।
ঘুরতে আসা দর্শনার্থী তানিয়া জানান, চারদিকের সাদা কাশফুল আর খোলা পরিবেশ মনকে প্রশান্তি দেয়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এখানে সময় কাটাতে পেরে তিনি আনন্দিত। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই স্থানের ছবি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘুরতে এসেছেন মাহিম মোল্যা নামের এক যুবক। তিনি জানান, সরাসরি কাশফুলের সৌন্দর্য দেখে তিনি মুগ্ধ।
শিশুদের নিয়ে ঘুরতে আসা শাপলা নামের এক নারী জানান, শহরের কাছেই এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ থাকায় অবসর সময়ে শিশুদের নিয়ে আসা সহজ হয়েছে। খোলা জায়গায় সময় কাটাতে পেরে শিশুরা যেমন আনন্দিত, তেমনি বড়রাও প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করছেন।
শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও কাশগাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয়ভাবে কাশগাছ দিয়ে ঝাড়ু, ডালি ও মাদুর তৈরি করা হয়। এছাড়া পানের বরজ, ঘরের ছাউনি, বাড়ির সীমানার বেড়া এবং কৃষকের মাথাল তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতিবছর এই সময়ে কাশফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। তবে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়া জরুরি। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং ফুল নষ্ট না করার মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: বিডি২৪ লাইভ
Reporter Name