রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিল্পায়নের পথে বড় বাধা ঋণ ও জ্বালানি সংকট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ Time View

রংপুর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা থাকলেও অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে তা কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও উচ্চ সুদহার, ঋণের কঠিন শর্ত এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এমদাদুল হক সম্প্রতি এ অঞ্চলের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রংপুরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মূলত কৃষি। ধান, আলু, ভুট্টা ও তামাকের মতো পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন এ অঞ্চলের প্রাণ। পাশাপাশি শতরঞ্জির মতো ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। অটো রাইস মিল, হিমাগার ও কিছু বড় শিল্প ইউনিট থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নানা সংকটে ধুঁকছে।

চেম্বার সভাপতির তথ্যমতে, নানা সীমাবদ্ধতায় রংপুরের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কারখানা বর্তমানে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। এছাড়া লোকসান ও ব্যবসায়িক সংকটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কারখানা বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পকারখানার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অর্থায়ন সংকটকে। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ ও জটিল শর্তের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ১৯৭৮-৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিক শিল্পনগরে ড্রেনেজ সমস্যা, জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তার অভাব প্রকট। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জায়গার সংকট নিরসনে দ্বিতীয় একটি বিসিক শিল্পনগর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

রংপুর বিভাগে প্রস্তাবিত চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও চলছে ধীরগতিতে। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত প্রস্তুত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করা গেলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম হবে।

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এ অঞ্চলে ১০ বছরের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) এবং কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল হবে।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও রংপুরে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তারা মূলত ই-কমার্স, বুটিকস, আইটি ফ্রিল্যান্সিং, শতরঞ্জি ও রেস্তোরাঁ খাতের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরি করছেন। এসব উদ্যোগ স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
8 + 1 =


About Author Information

Popular Post

খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে পছন্দের গান, গবেষণায় মিলল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

রংপুরে শিল্পায়নের পথে বড় বাধা ঋণ ও জ্বালানি সংকট

Update Time : ০৭:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা থাকলেও অর্থায়ন ও জ্বালানি সংকটের কারণে তা কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও উচ্চ সুদহার, ঋণের কঠিন শর্ত এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এমদাদুল হক সম্প্রতি এ অঞ্চলের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রংপুরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মূলত কৃষি। ধান, আলু, ভুট্টা ও তামাকের মতো পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন এ অঞ্চলের প্রাণ। পাশাপাশি শতরঞ্জির মতো ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়ে গেছে। অটো রাইস মিল, হিমাগার ও কিছু বড় শিল্প ইউনিট থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখন নানা সংকটে ধুঁকছে।

চেম্বার সভাপতির তথ্যমতে, নানা সীমাবদ্ধতায় রংপুরের প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ কারখানা বর্তমানে তাদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। এছাড়া লোকসান ও ব্যবসায়িক সংকটে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কারখানা বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি শিল্পকারখানার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অর্থায়ন সংকটকে। ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ ও জটিল শর্তের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ১৯৭৮-৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিসিক শিল্পনগরে ড্রেনেজ সমস্যা, জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তার অভাব প্রকট। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জায়গার সংকট নিরসনে দ্বিতীয় একটি বিসিক শিল্পনগর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

রংপুর বিভাগে প্রস্তাবিত চারটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজও চলছে ধীরগতিতে। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দ্রুত প্রস্তুত করে বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিশ্চিত করা গেলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম হবে।

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে এ অঞ্চলে ১০ বছরের কর অবকাশ (ট্যাক্স হলিডে) এবং কৃষি ও অবকাঠামো খাতে বিশেষ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তাদের মতে, বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম গতিশীল হবে।

তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও রংপুরে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তারা মূলত ই-কমার্স, বুটিকস, আইটি ফ্রিল্যান্সিং, শতরঞ্জি ও রেস্তোরাঁ খাতের মাধ্যমে নতুন বাজার তৈরি করছেন। এসব উদ্যোগ স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো