রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসন খাতে সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে এসইএল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ Time View

আবাসন খাতের উন্নয়নে ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দ্য স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এসইএল)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া ক্রেতা ও নির্মাতা—উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন এসইএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান।

তিনি জানান, আবাসন প্রকল্পে নকশাগত সৌন্দর্যের চেয়ে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিশেষ করে মানসম্মত বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্লাম্বিং ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করায় প্রকল্প বিলম্বিত হলে নির্মাতাদেরও আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আবদুর রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণের সুদ হার সহনীয় করার ওপরও তিনি জোর দেন।

ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় এসইএল ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করছে। সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও উন্নত মানের নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ে ভবনগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় ভবন থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ ও নিরাপদ স্থান রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসইএল তাদের প্রকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রেখে এসির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে তাপপ্রতিরোধী ব্লক।

বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় এখন ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা এখন ওপেন কিচেন, জিম ও কমিউনিটি স্পেসের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা খুঁজছেন। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম ও পরিবহন খরচ বাড়ায় ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আবদুর রহমান জানান, তারা এখন পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বিল্ডিং’ নির্মাণে বেশি মনোযোগী। আইএফসির ‘এজ’ সার্টিফায়েড প্রকল্পের পাশাপাশি স্মার্ট প্রযুক্তি ও বর্জ্য শোধন ব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন আবাসন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এসইএল।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
− 1 = 2


About Author Information

Popular Post

খাবারের স্বাদ বাড়াতে পারে পছন্দের গান, গবেষণায় মিলল বৈজ্ঞানিক প্রমাণ

আবাসন খাতে সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও পরিবেশবান্ধব নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছে এসইএল

Update Time : ০৭:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আবাসন খাতের উন্নয়নে ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দ্য স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এসইএল)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া ক্রেতা ও নির্মাতা—উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন এসইএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান।

তিনি জানান, আবাসন প্রকল্পে নকশাগত সৌন্দর্যের চেয়ে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিশেষ করে মানসম্মত বৈদ্যুতিক সংযোগ, প্লাম্বিং ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করায় প্রকল্প বিলম্বিত হলে নির্মাতাদেরও আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আবদুর রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতে ঋণের সুদ হার সহনীয় করার ওপরও তিনি জোর দেন।

ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় এসইএল ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করছে। সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও উন্নত মানের নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ে ভবনগুলোকে ভূমিকম্প-সহনশীল করা হচ্ছে। পাশাপাশি জরুরি অবস্থায় ভবন থেকে দ্রুত বের হওয়ার পথ ও নিরাপদ স্থান রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসইএল তাদের প্রকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ভবনে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রেখে এসির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে তাপপ্রতিরোধী ব্লক।

বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ায় এখন ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা বেশি। ক্রেতারা এখন ওপেন কিচেন, জিম ও কমিউনিটি স্পেসের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা খুঁজছেন। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম ও পরিবহন খরচ বাড়ায় ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আবদুর রহমান জানান, তারা এখন পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বিল্ডিং’ নির্মাণে বেশি মনোযোগী। আইএফসির ‘এজ’ সার্টিফায়েড প্রকল্পের পাশাপাশি স্মার্ট প্রযুক্তি ও বর্জ্য শোধন ব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন আবাসন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে এসইএল।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো