বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতায় চাপে দেশের অর্থনীতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ Time View

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত দলিলেও এসব সংকটের প্রতিফলন দেখা গেছে।

বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি দেশের রফতানি খাতেও নতুন করে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এই খাতের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। আর্থিক খাতের এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরকারের ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ মেয়াদের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এসব সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রাজস্ব ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতাকে অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকটগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে অর্থনৈতিক উত্তরণ কঠিন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
+ 14 = 16


About Author Information

Popular Post

দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি, প্রতিষ্ঠানভেদে থাকছে ভিন্নতা

রাজস্ব ঘাটতি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতায় চাপে দেশের অর্থনীতি

Update Time : ০৮:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত দলিলেও এসব সংকটের প্রতিফলন দেখা গেছে।

বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি দেশের রফতানি খাতেও নতুন করে চাপের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা। বিশেষ করে খেলাপি ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এই খাতের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। আর্থিক খাতের এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সরকারের ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ মেয়াদের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে এসব সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রাজস্ব ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতাকে অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংকটগুলো একটি অন্যটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা দূর করা না গেলে অর্থনৈতিক উত্তরণ কঠিন হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন