বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাওয়া শৈশবের বন্ধুর খোঁজে প্রবাস থেকে এক নারীর আবেগঘন স্মৃতিচারণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ০ Time View

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই দিনগুলো আজও অমলিন সুদূর কানাডাপ্রবাসী এক নারীর স্মৃতিতে। বিশেষ করে তার শৈশবের প্রিয় বন্ধু সন্ধ্যা রানীর কথা তিনি ভুলতে পারেননি। সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণায় তিনি তুলে ধরেছেন তাদের বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ এবং কয়েক দশক ধরে বয়ে বেড়ানো এক অপেক্ষার গল্প।

রাজারবাগের সেই দিনগুলোতে তারা দুজন ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া, শিউলি ফুল কুড়ানো আর স্কুলের গোলচত্বরে বসে গান গাওয়ার স্মৃতিগুলো আজও তাকে নাড়া দেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’র সুর এখনো তার কানে বাজে।

তাদের এই বন্ধুত্বে ছেদ পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষার পর। সন্ধ্যার বাবার বদলি হয় সিলেটে। যাওয়ার আগে সন্ধ্যা কথা দিয়েছিল সে চিঠি লিখবে, কিন্তু সেই চিঠি আর কোনোদিন পৌঁছায়নি। কোনো ঠিকানা না থাকায় যোগাযোগ করারও কোনো উপায় ছিল না। সেই থেকে শুরু হয় এক দীর্ঘ অপেক্ষার।

স্মৃতিচারণায় ওই নারী জানান, সন্ধ্যার চলে যাওয়ার পর নতুন স্কুলে ভর্তি হলেও দীর্ঘ সময় তিনি একাকীত্ব অনুভব করেছেন। জীবনের প্রয়োজনে তিনি এখন প্রবাসী এবং শারীরিক গঠনেও এসেছে পরিবর্তন। লম্বা চুল কেটে ছোট করেছেন, চোখে উঠেছে চশমা। কিন্তু মনের গহিনে শৈশবের সেই বন্ধুটির জন্য জায়গাটি রয়ে গেছে আগের মতোই।

বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে তিনি প্রায়ই ফেসবুকে ‘সন্ধ্যা রানী’ নামে তার সেই বন্ধুকে খুঁজে বেড়ান। তিনি আশা করেন, কোনো একদিন হয়তো হঠাৎ স্ক্রিনে ভেসে উঠবে সন্ধ্যার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। শৈশবের সেই অম অমলিন স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেওয়ার জন্য তিনি আজও উন্মুখ হয়ে আছেন।

পুরোনো দিনের কথা মনে করে তিনি আরও জানান, স্কুলের সামনে থেকে ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা রাস্তার ধারের পরিচিত কোনো মানুষকে দেখে ভয় পাওয়ার সেই দিনগুলো তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। সময়ের আবর্তে অনেক কিছু বদলে গেলেও শৈশবের সেই বন্ধুত্বের টান আজও তাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information


Math Captcha
39 − 37 =


About Author Information

Popular Post

নাগরিকের ক্যামেরায় ধরা পড়ল প্রকৃতি ও জনজীবনের বৈচিত্র্যময় রূপ

হারিয়ে যাওয়া শৈশবের বন্ধুর খোঁজে প্রবাস থেকে এক নারীর আবেগঘন স্মৃতিচারণ

Update Time : ০৮:০১:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেই দিনগুলো আজও অমলিন সুদূর কানাডাপ্রবাসী এক নারীর স্মৃতিতে। বিশেষ করে তার শৈশবের প্রিয় বন্ধু সন্ধ্যা রানীর কথা তিনি ভুলতে পারেননি। সম্প্রতি এক স্মৃতিচারণায় তিনি তুলে ধরেছেন তাদের বন্ধুত্ব, বিচ্ছেদ এবং কয়েক দশক ধরে বয়ে বেড়ানো এক অপেক্ষার গল্প।

রাজারবাগের সেই দিনগুলোতে তারা দুজন ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। স্কুলের টিফিন ভাগ করে খাওয়া, শিউলি ফুল কুড়ানো আর স্কুলের গোলচত্বরে বসে গান গাওয়ার স্মৃতিগুলো আজও তাকে নাড়া দেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যার কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’র সুর এখনো তার কানে বাজে।

তাদের এই বন্ধুত্বে ছেদ পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফাইনাল পরীক্ষার পর। সন্ধ্যার বাবার বদলি হয় সিলেটে। যাওয়ার আগে সন্ধ্যা কথা দিয়েছিল সে চিঠি লিখবে, কিন্তু সেই চিঠি আর কোনোদিন পৌঁছায়নি। কোনো ঠিকানা না থাকায় যোগাযোগ করারও কোনো উপায় ছিল না। সেই থেকে শুরু হয় এক দীর্ঘ অপেক্ষার।

স্মৃতিচারণায় ওই নারী জানান, সন্ধ্যার চলে যাওয়ার পর নতুন স্কুলে ভর্তি হলেও দীর্ঘ সময় তিনি একাকীত্ব অনুভব করেছেন। জীবনের প্রয়োজনে তিনি এখন প্রবাসী এবং শারীরিক গঠনেও এসেছে পরিবর্তন। লম্বা চুল কেটে ছোট করেছেন, চোখে উঠেছে চশমা। কিন্তু মনের গহিনে শৈশবের সেই বন্ধুটির জন্য জায়গাটি রয়ে গেছে আগের মতোই।

বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে তিনি প্রায়ই ফেসবুকে ‘সন্ধ্যা রানী’ নামে তার সেই বন্ধুকে খুঁজে বেড়ান। তিনি আশা করেন, কোনো একদিন হয়তো হঠাৎ স্ক্রিনে ভেসে উঠবে সন্ধ্যার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট। শৈশবের সেই অম অমলিন স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেওয়ার জন্য তিনি আজও উন্মুখ হয়ে আছেন।

পুরোনো দিনের কথা মনে করে তিনি আরও জানান, স্কুলের সামনে থেকে ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা রাস্তার ধারের পরিচিত কোনো মানুষকে দেখে ভয় পাওয়ার সেই দিনগুলো তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। সময়ের আবর্তে অনেক কিছু বদলে গেলেও শৈশবের সেই বন্ধুত্বের টান আজও তাকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো