আজ ৪ আশ্বিন, ১৪২৮, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ গুলোকে পরিণতি বেশি ভোগ করতে হবে-শেখ হাসিনা

খোঁজ খবর ডেস্ক: যেসব দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি দায়ী, তাদের অবশ্যই পরিণতি বেশি ভোগ করতে হবেজলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের নিষ্ক্রিয়তার মূল্য প্রতিটি মানুষের জন্য ভয়াবহ। তাই ব্যাপারে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কর্ম পরিকল্পনা সরবরাহে ব্যর্থতার দায়ভার অবশ্যই প্রতিটি দেশকে সমানভাবে নিতে হবে

সোমবার ( ডিসেম্বর) স্পেনের মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে ২৫ তম আসরে অর্থাৎঅ্যাকশন ফর সারফাইভাল: ভালনারেবল নেশনস কপ২৫ লিডার্স সামিট’ (আইএফইএমএ) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি কথা বলেন

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আমরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের সভ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বকে ধ্বংস করছে। বাংলাদেশের মতো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য এটা একটি অস্তিত্ব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

তিনি বলেন, আমরা দুই দিক থেকে লড়াই করছি। প্রথমত: কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং এমনকি ভবিষ্যতে নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত: যেখানে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, সেখানে অভিযোজনের ব্যবস্থা নেওয়া। দুই দিক থেকে আমরা যদি ব্যবস্থা না নিই, তবে কয়েক মিলিয়ন মানুষের জীবনজীবিকা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত আন্তঃসরকারি প্যানেলের (আইপিসিসি) পঞ্চম মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (এআর) স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস বা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব চলমান শতাব্দীতে আরো তীব্রতর হতে থাকবে

তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সালের নভেম্বরে মালেতে ফোরামের প্রথম সভার পর বৈশ্বিক জলবায়ু দৃশ্যপটের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে এক্ষেত্রে ইউএনএফসিসিসির প্রক্রিয়ার অগ্রগতি খুব ধীর এবং অপর্যাপ্ত। বিশেষত আমাদের মতো দুর্বল দেশগুলোতে জাতীয়ভাবে গ্রহণ করা অভিযোজনমূলক উদ্যোগে সহায়তা করার জন্য খুব কমই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন উদ্দেশে গঠন করা তহবিলগুলোতে পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব রয়েছে। সরাসরি এবং সহজে তহবিল পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত এবং মানদণ্ড রয়েছে, বেশিরভাগই সেসব সক্ষম দেশগুলোর পক্ষেই যায়

জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরিবেশ ধ্বংসের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা অভাবের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে একটা মানদণ্ড ঠিক করার দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধান দূষণ বা কার্বন নির্গমনকারীরা দূষণ কমাতে চরম অনিহা দেখাচ্ছে যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু শাসনব্যবস্থা ধ্বংস বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আরও বিপদের ঝুঁকিতে ফেলবে। সুতরাং, নিষ্ক্রিয়তার জবাবদিহিতা চেয়ে আমাদের দ্বিধা করা উচিত নয়

২০২০ সালে নেদারল্যান্ডসেক্লাইমেট অ্যাডাপটেশসন সামিটেঅভিযোজন প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হবে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলো সম্মত হলে বাংলাদেশ জলবায়ু ভালনারেবল ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দায় খুবই নগণ্য বা কোনো অবদানই নেই। এটি গুরুতর অন্যায় একথা বিশ্ব সম্প্রদায়কে স্বীকার করতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর