আজ ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

১৩তম এসএ গেমসের প্রথম দিন ১৬ পদক পেল বাংলাদেশ

খোঁজ খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা ১৩তম এসএ গেমসের প্রথম দিন ১৬টি পদক জেতে । এর মধ্যে তায়কোয়ান্দোতে স্বর্ণ জেতেন দিপু চাকমা। প্রথম দিন এই একটি স্বর্ণই আসে বাংলাদেশের পদক তালিকায়। তায়কোয়ান্দো থেকে দিপুর স্বর্ণ ছাড়াও আসে দুটি ব্রোঞ্জ। সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশের হয়ে প্রথম দিন স্বর্ণপদক এনে দেন তাইকোয়ান্দো খেলোয়াড় দিপু চাকমা। তিনি ২৯ বা এর বেশি ওজনের প্রতিযোগীদের ইভেন্ট পুমসে এই পদক জেতেন। আর এবারের গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক আসে নারী কারাতে খেলোয়াড় হোমায়রা আক্তার অন্তরার মাধ্যমে। তিনি জেতেন ব্রোঞ্জপদক। তার পদকটি আসে মেয়েদের কাতা এককে। আর প্রথম রৌপ্যপদকটি আসে কারাতেরই আরেক শাখা নারী কুমিতেতে। ৪৫ কেজির কম ওজনের প্রতিযোগিতায় পদকটি জেতেন তিনি।

এর আগে এবারের গেমসে বাংলাদেশের প্রথম পদক আসে নারী কারাতে খেলোয়াড় হোমায়রা আক্তার অন্তরার মাধ্যমে। তিনি লড়েন মেয়েদের কাতা এককে। ৫ প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। এরপর পুরুষ বিভাগে একই ইভেন্ট থেকে ব্রোঞ্জপদক জেতেন মোহাম্মদ হাসান। তবে ২০১০ সালে এই ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু এবার সেটি আর পুনঃরুদ্ধার করতে পারেননি হাসান। ছেলে-মেয়েদের এককে পদক জেতার পর মেয়েদের দলীয় কাতাতেও ব্রোঞ্জপদক জেতে বাংলাদেশ।

এসএ গেমসের এ আসরে বাংলাদেশকে প্রথম স্বর্ণ এনে দেয়া দিপু চাকমা চাকরি করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। দিপু এসএ গেমসের স্বর্ণপদক পাওয়ার আগে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাঁচটি স্বর্ণপদক ও একবার রুপার পদক জেতেন। তিনি এবারই দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় আসর এসএ গেমসে খেলতে আসেন। আর প্রথমবারেই বাজিমাত করলেন তিনি। পদক পেয়ে নিজের অনুভ‚তি জানাতে গিয়ে দিপু বলেন, ‘আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। বুঝতেই পারছি না কীভাবে কি হলো। আমার এই অনুভুতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। দেশকে কিছু দিতে পেরেছি বলে খুব গর্ব হচ্ছে। আমি অনেক দিন ধরেই এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় ছিলাম’। দিপু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ২০০১ সালে। আর সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার পরই ভালোবেসে ফেলেন তায়কোয়ান্দোকে। তার বড় ভাইও তাকে প্রচণ্ড উৎসাহ দিয়েছেন। এসএ গেমসের আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ এশিয়ান হামবাদান গেমসে স্বর্ণ জেতেন তিনি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রথম ব্রোঞ্জপদক জেতা হোমায়রা আক্তার অন্তরা কারাতে খেলছেন ৫ বছর ধরে। এ পর্যন্ত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচবার হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। বয়সও বেশি নয় হোমায়রার। এ বছরই উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পাস করেন তিনি। তার আরেক বোনও রয়েছেন কারাতেতে। মূলত বাবার উৎসাহ পেয়েই কারাতে খেলছেন তিনি। তবে ব্রোঞ্জপদক জিতলেও তার প্রত্যাশা ছিল স্বর্ণপদক। সেটি না পাওয়ায় কিছুটা আফসোস রয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘আমি এই ফলাফলে খুশি। কিন্তু আফসোস সোনা পেলাম না’। কারাতে খেলার জন্য প্রায় সময়ই তিনি পরীক্ষা দিতে পারতেন না। তবে স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ায় তিনি এতো দূর আসতে পেরেছেন বলে জানান। হোমায়রা বলেন, আমি কারাতের জন্য প্রায় সময়ই পরীক্ষা দিতে পারতাম না। তবে আমার স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে এ ব্যাপারে সহায়তা করেছে। তাই আমি আজ এতদূর আসতে পেরেছি। তেবে হোমায়রার সামনে এখনো সুযোগ রয়েছে সোনা জেতার। আজ ৬১ কেজি কুমিতেতে খেলবেন তিনি।

অন্যদিকে মুনজেরা বন্যাও কারাতের একজন সফল খেলোয়াড়। তিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার জাতীয় পর্যায়ে পদক জিতেছেন। বাংলাদেশের হয়ে পদক জিততে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। মুনজেরা বলেন, ‘দেশের হয়ে পদক জিততে পেরে ভালো লাগছে। সামনে আরো যে ইভেন্টগুলো রয়েছে সেখানে স্বর্ণ জিততে চাই’।

সোমবার দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ইভেন্টে বাংলাদেশ জিততে থাকে পদক। দুপুর গড়ানোর আগেই স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জপদক পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর প্রথম দিনই রৌপ্যপদক পেয়ে যায় বাংলাদেশ। রৌপ্যপদকটি আসে কারাতেরই আরেক শাখা কুমিতেতে। বাংলাদেশের হয়ে এই পদকটি জেতেন মুনজেরা বন্যা। মুনজেরা বন্যা এর আগে ২০১৫ সালে কমনওয়েলথ গেমসেও রৌপ্যপদক জেতেন।

তবে অন্য ইভেন্টগুলোতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা উজ্জ্বল থাকলেও ফুটবলে হোঁচট খায়। গতকাল কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে খর্বশক্তির দল ভুটানের বিপক্ষে হেরে যায় জামাল ভূঁইয়ারা। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে তারা। স্বর্ণের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচটিতে বাংলাদেশকে জিততেই হবে। পাঁচ দলের মধ্যে সেরা দুই দল ফাইনালে স্বর্ণের জন্য লড়বে। প্রথম ম্যাচ হারায় বাকি তিন ম্যাচই এখন জিততে হবে কোচ জেমি ডের শিষ্যদের। তা ছাড়া ছেলেদের ভলিবল প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জপদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হেরেছে বাংলাদেশ।

এদিকে এর আগে ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া সর্বশেষ আসরে সবমিলিয়ে ৭৫টি পদক জেতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। তার মধ্যে ছিল চারটি স্বর্ণপদক। আর এই ৪টি পদকের মধ্যে একাই দুটো জিতেছিলেন নারী সাঁতারু শিলা। ৪ স্বর্ণপদকের পাশাপাশি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা গতবার দেশে নিয়ে আসেন ১৫টি রৌপ্য ও ৫৬টি ব্রোঞ্জপদক। এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথম দিনই ১৬ পদক জেতায় সেটি আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর