আজ ১৩ আশ্বিন, ১৪২৮, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

গাইবান্ধায় আলোচিত ছয়টি হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সুপারের প্রেস ব্রিফিং

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলায় আলোচিত পাঁচটি হত্যাকান্ড ও ফুলছড়ি উপজেলায় এক মাঝি হত্যাকান্ডের (হাসান-রোকন-রকি-লিখন-নান্নু-সুজন মাঝি হত্যাকান্ড) ঘটনায় স্থানীয় জনগন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এসব হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে গাইবান্ধা শহর ও ফুলছড়ি উপজেলায় দফায় দফায় মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালিত হচ্ছে। মূল আসাসিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে আন্দোলন কর্মসুচিতে অভিযোগ আনা হয়। এই বাস্তবতায় মামলাগুলোর অগ্রগতি জানাতে আজ শনিবার প্রেস ব্রিফিং করেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। আজ বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত নিজস্ব মিলনায়তনে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) নুর আলম সিদ্দিকী, গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান প্রমুখ।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, জেলা শহরের জুতা ব্যবসায়ী হাসান আলী হত্যার ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার দিনই মুল আসামি মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সুষ্ঠুভাবে ঘটনার তদন্ত কাজ চলছে। এই হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
রোকন হত্যাকান্ডের পরই পুলিশ তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার অপর চারজন আসামি সম্প্রতি আদালতে আত্মসমর্পন করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে।
রকি হত্যা মামলার তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। লিখন হত্যাকান্ডের ঘটনার পরপরই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামি মামুনকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।
পোশাক শ্রমিক নান্নু মিয়াকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়। নিহতের মুঠোফোনের কললিষ্ট দেখে আয়নাল নামের এক মুল আসামিকে নারায়নগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আয়নালের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও আশুলিয়া থেকে আরও হত্যায় সরাসরি জড়িত চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী গ্রহনের জন্য এই মামলার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে। ফুলছড়ি উপজেলার সুজন মাঝি হত্যাকান্ডে এক ইউপি সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ১৬৪ ধারায় দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রতিটি হত্যার ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে পুলিশ। বিচক্ষনতার সঙ্গে পুলিশ তদন্ত কাজ শুরু করে। পুলিশের কয়েকটি দল বিভিন্ন জেলা চষে বেড়ায়। তারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এসব হত্যাকান্ডে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর