মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:
দুই ছেলে ও স্ত্রী’র পাশে সমাহিত করা হয়েছে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াকে গাইবান্ধায় ভুমিহীন ও গৃহহীনদের মধ্যে জমিসহ গৃহ হস্তান্তর গাইবান্ধায় স্কুল ছাত্রকে বস্তাবন্দি করে পানিতে চুবিয়ে হত্যা, তিন বন্ধু গ্রেফতার গাইবান্ধায় গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষদের ঘর বরাদ্দ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রেস বিফ্রিং গাইবান্ধায় জেলা পরিষদের বৈদ্যুতিক পাখা বিতরণ পেঁয়াজ আমদানির ফলে কমেছে দাম ছেলে-বউয়ের নির্যাতনে ঘর ছাড়া বৃদ্ধা মা যমুনা গর্ভে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবন বিরাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফার্নিচার মেলা, খেলাধুলা বন্ধ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ঈদুল আজহা ৯ জুলাই

পবিত্র ঈদুল আজহার পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাঁদপুরের খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৬০ বার পঠিত
প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ন

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ হাতে গোনা ১০/১১ দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এবারও করোনার মধ্যে পালিত হবে কোরবানীর ঈদ। তবে গত বারের চেয়ে সময়টা এ বছর বেশি খারাপ। নানা বিধি—নিষেধ দিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে সরকার। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে খামারীদের দুশ্চিন্তা। তবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের যৌথ প্রচেষ্টায় চালু হয়েছে “অনলাইন পশুরহাট, চাঁদপুর”। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ অনলাইনে কোরবানির পশু কেনার জন্য চাঁদপুরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলছে লকডাউন। কোরবানির আগে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাঁদপুরের গরুর খামারিরা। কতদিন চলবে লকডাউন তা নিশ্চিত নয়। পশুরহাট বসবে কিনা তাও অনিশ্চিত। সারা বছর খামারে পরিশ্রম ও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার পর এখন পশুর বাজার ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। যানবাহন বন্ধ থাকার কারণে বাইরে থেকে আসতে পারছে না পাইকারী গরু ব্যবসায়ীরা। অন্য বছর এ সময় ক্রেতা বিক্রেতাদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে গরুর হাটগুলো। আর এ বছর গরুরহাট এখনো বন্ধ। কবে হাট বসবে তাও কেউ বলতে পারবেনা।
ফরিদগঞ্জের গরু খামারী মাহফুজুর রহমান জানান, তার খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে ৩০টি ষাড় রয়েছে। যা শুধুমাত্র কোরবানী ঈদে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু তিনিও হতাশ, করোনাকালিন সময়ে গরু কিভাবে বিক্রি করবে, মানুষ তো ঘর থেকে বের হচ্ছে না। হতাশায় দিন কাটাচ্ছে তার মতো অনেক খামারির।
চাঁদপুরের কয়েকজন খামারি জানান, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এবং চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বেড়ে যাওয়ায় এখন গরু ও ছাগলের বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা। এবার কোরবানি সামনে রেখে লাভের আশায় তারা বিনিয়োগও করেছে প্রচুর অর্থ। কিন্তু লকডাউন এর মেয়াদ আরও ৭ দিন বৃদ্ধির ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পশুর দাম কমতে শুরু করেছে। যদি কোরবানিতে পশুর হাট না বসে তাহলে ন্যায্য দাম তারা পাবেন না। এতে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিতে পড়তে হবে।
দুর্গাপুর ইউনিয়নে বিশাল গরু ও ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য রিয়াজুল হাসান। তিনি জানান, এবার কোরবানি সামনে রেখে লাভের আশায় তারা ৫৩টি গরু ও ২৩টি ছাগল প্রস্তুতি করেছেন। যদি কোরবানিতে পশুর হাট না বসে তাহলে তাদের আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে।
একই কথা জানান, মতলবের ছেংগারচর পৌরসভার ঠাকুরচর গ্রামের প্রান্তিক খামার মালিক মানিক বেপারী। তিনি জানান, কোরবানি সামনে রেখে পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে ৭টি গরু মোটাতাজা করেছেন। নিজে ঠিকমতো না খেয়ে গরুর পেছনে ব্যয় করেছেন অর্থ ও শ্রম। এখন দেশের যে অবস্থা, তাতে সঠিক দাম না পেলে পথে বসতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। শুধু মানিক বেপারী বা একই গ্রামের খামারি সালামত উল্লাহ খান নয়, একই রকম শঙ্কা ব্যক্ত করেন অনেক খামার মালিক।
মতলব উত্তর উপজেরা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফারুক হোসেন জানান, গত বছরও কোরবানির সময় করোনা পরিস্থিতি ছিল। এবারও এ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতি রেখে খামার থেকে গরু সংগ্রহ করে কোরবানি দিবে। অনলাইন সিস্টেমে ব্যাপক আকারে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে এবং এতে খামার মালিকরা তাদের প্রস্তুত করা পশুর ন্যায্য দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় খামারগুলোতে প্রাণিসম্পদ দফতরের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। সেই সাথে খামারের গবাদি পশুগুলোকে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আগামী ১৪ তারিখের পর বসবে গরুর হাট। এখন লকডাউন হওয়ায় গরুর হাট বসানো হচ্ছে না। তবে আমরা হাট বসানোর কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রেখে ইজারা প্রক্রিয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম এগিয়ে রেখেছি। কিন্তু সব নির্ভর করবে সরকারি পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।
তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে অনলাইনে গরু কেনাবেচার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওখান থেকে কোরবানির জন্য যে কেউ নির্ধারিত মূল্যে গরু ক্রয় করতে পারবে। স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নির্দেশনা মানার ব্যাপারে আমরা তৎপর রয়েছি। গরুর হাট বসলেও সে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। তবে সব কিছু পরবর্তী সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করছে।

শরীফ চৌধুরী, চাঁদপুর
০৯.০৭.২০২১


এ জাতীয় আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর