আজ ২৪ ফাল্গুন, ১৪২৭, ৮ মার্চ, ২০২১

গাইবান্ধার ৭৩টি বিদ্যালয়ের দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার মানবেতর জীবন যাপন

স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলার ৭৩টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়ের দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০০৯ সাল থেকে বেতনভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোকে অবিলম্বে এমপিওভুক্তসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শনিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী শিক্ষক সমিতি জেলা শাখা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা কমিটির আহবায়ক মো. আরিফুর রহমান অপু তার লিখিত বক্তব্যে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হচ্ছে- ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনলাইনে আবেদনকৃত সকল বিদ্যালয়কে একই সঙ্গে অনতিবিলম্বে স্বীকৃতি ও এমপিও ঘোষণা, ছাত্রছাত্রীদের শতভাগ উপবৃত্তিসহ তাদের জীবনমান উন্নয়নে কারিকুলাম অনুযায়ী সকল বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সহায়ক ভবন নির্মাণ ও সহায়ক উপকরণ প্রদানের ঘোষণা, বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্তির দিন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ সকল সুবিধাদি প্রদানের লক্ষ্যে এই ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় ৭৩টি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই এসমস্ত প্রতিষ্ঠানে দেড় হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ১৪ হাজার ৫শ’ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক ছাত্রছাত্রীকে বিনা বেতনে নিয়মিত শিক্ষা প্রদান করে আসছেন। কিন্তু ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমপিওভুক্ত করার আবেদন জানানো শত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ওই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং অর্থাভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জেলা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গাইবান্ধার সরকারপাড়া বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিষ্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা আকতারের সভাপতিত্বে শনিবার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা তাদের ১১ দফা দাবি নামার প্রতি ঐক্যমত পোষণ করেন এবং মো. আরিফুর রহমান অপুকে আহবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মো. জাকির হোসেন, মো. আরিফ রহমান, জাহারা আকতার, মো. বেলাল হোসেন, নেতার তোয়া, প্রশান্ত কুমার সরকার, আনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, শাম্মী আকতার, মেহেদী হাসান, মো. নুর আলম মন্ডল, মো. স্বাধীন বাদশা, শ্যামল কুমার, রবিউল ইসলাম, মশিউর রহমান, সাখোয়াত হোসেন, গোলাম মোস্তফা, তারেক মাহমুদ, রিক্তা খাতুন, নুর শাহজাদা সুমন, শহিদ মিয়া, আমিন কবির, এএইচএম সালেক, খন্দকার মো. এরফান উদ্দিন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. রেজওয়ান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর