আজ ৫ কার্তিক, ১৪২৭, ২১ অক্টোবর, ২০২০

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে গাইবান্ধায় সাইকেল র‌্যালী

স্টাফ রিপোর্টারঃ বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সকল নাগরিকের জন্য জীবিকার নিশ্চয়তা এবং খাদ্য ও পুষ্টি অধিকার নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকালে উত্তরণ, গাইবান্ধা আয়োজিত এবং খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (খানি), বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় সাইকেল র‌্যালী অনুষ্টিত হয়। উক্ত সাইকেল র‌্যালী উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মো: আবদুল মতিন। তিনি বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে খাদ্যকে জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। সরকার সকল মানুষের জন্য পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবারের নিশ্চিয়তা প্রদানের চেষ্টা করছে। যেটি সরকারের ভিশন ২০৪১ এ উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কোনো মানুষ অনাহারে থাকে না। সরকার সকল মানুষের জন্য খাদ্যের নিশ্চিয়তা প্রদান করছে। খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে উত্তরণ গাইবান্ধা ও খানি, বাংলাদেশ সাইকেল র‌্যালীর আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে র‌্যালীর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

সাইকেল র‌্যালীটি স্বাধীনতা প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গাইবান্ধা পৌরপার্কের শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়। সাইকেল র‌্যালীর সমাপনীতে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন। জীবিকা, খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়নের দাবিতে সহমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, শুধু খাদ্য নিশ্চিত করলেই হবেনা অবশ্যই নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য হতে হবে। এরপর আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাইকেল র‌্যালীটির সমাপ্তি ঘোষনা করেন।


উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: সাদিকুর রহমান , পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল আহমেদ, তানজিমুল ইসলাম পিটার, কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুুুুুুুুুুুুুুস সালাম জাকির, উত্তরণের সম্পাদক জিএসএম আলমগীর, ফিল্ড-অফিসার রণজিৎ বর্মন, জলবায়ু পরিষদের সদস্য তামজিদুর রহমান তুহিন, সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল, সোহাগ বাবু, রাজিয়া সুলতানা, জ্যোতি, সুজন, হৃদয়, মারুফ, জায়েদ উন্নয়ন কর্মী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ। র‌্যালীতে উত্তরণ ও জলবায়ু পরিষদের সদস্য এবং ভলান্টিয়ারগণ অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচিতে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালের বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৩তম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে গবেষকরা বলছে, করোনা মহামারী লকডাউন সময়ে দেশের প্রায় ৯৮.৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বলছে, দেশের পরিবারগুলোর আয় ২০.২৪ শতাংশ কমেছে। তাই দেশের সকল মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতিভেদে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য এখনই জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ভলেন্টারি গাইডলাইনের আলোকে দেশে খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করা জরুরি। এই আইন প্রণীত হলে সকল মানুষের খাদ্য ক্রয়ের জন্য আয়, খাদ্যের যোগান এবং সংস্কৃতিভেদে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের আইনী বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালে খাদ্য অধিকার বিষয়ক আইন প্রণয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষ্যে আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা এই আইন প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর