আজ ১০ কার্তিক, ১৪২৭, ২৬ অক্টোবর, ২০২০

দুই বছরের মধ্যেই একটি মডার্ন শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট দেখা যাবে

ঢাকা প্রতিনিধিঃ বর্তমান কমিশনের বয়স মাত্র ৪ মাস। এরই মধ্যে বেশ কিছু পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। যার রেজাল্ট আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে শুরু করেছেন। পুনর্গঠনের সব কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন হলে বর্তমান কমিশনের মেয়াদের দুই বছরের মধ্যেই একটি মডার্ন শেয়ারবাজার ও ক্যাপিটাল মার্কেট দেখা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এছাড়া ৩ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বাজারের একটি রূপ পাওয়া যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএফও আব্দুল মতিন পাটোয়ারী। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ যখন দেখবে এফডিআরের ৫-৬ শতাংশের থেকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ১০ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যাচ্ছে, তখন তারা এদিকে ঝুঁকবে। যাতে করে সামনে বাজারে লেনদেন অনেক বেড়ে যাবে। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সুশাসন আনতে হবে। এ খাতটি আগামীতে ভালোভাবে চলার জন্য কাজ শুরু করছি। কোম্পানি আইন পরিবর্তন করে বাই ব্যাক আইন করবেন বলে জানিয়েছেন শিবলী রুবাইয়াত। তবে এরই মধ্যে ৫টি কোম্পানি ও ২টি ডিবেঞ্চার ডিলিস্টিং করার কথা স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার সময় ২৫-২৬টা আইপিও জমা ছিল। যেগুলো বিগত ১-৩ বছরের পুরনো আইপিও। যে কোম্পানিগুলো বারবার অ্যাকাউন্টস জমা দিচ্ছিল। এতে করে প্রতিবার ৫-২০ লাখ টাকা খরচ হচ্ছিল। কিন্তু ওই সময়টায় আইপিও দেয়া হয়নি। এখন আমরা আইপিও দেই বা না দেই, সেটাতো কোম্পানিগুলোকে জানাতে হবে। এজন্য আমরা যাদের দেয়ার, তাদের দিয়ে দিচ্ছি। আর অন্যদের বাদ দিয়ে দিচ্ছি। আমরা কোম্পানিগুলোকে আইপিওর জন্য নতুন করে অ্যাকাউন্টস জমা দেয়াতে চাই না। তারা এরই মধ্যে ১-৫ বার অ্যাকাউন্টস জমা দিয়েছে। আমরা মোটামুটি আইপিও ক্লিয়ার করে নিয়ে আসছি। আশা করছি, ১ মাসের মধ্যে পুরনো সব আইপিও আবেদন ক্লিয়ার করে ফেলব।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মো. ইউনুসুর রহমান বলেন, শেয়ারবাজারে ভালো অবস্থানে রাখতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে দেশের বিনিয়োগের মাধ্যমেই উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, বাজার ভালো করার জন্য শতভাগের ৫০ ভাগই গভর্নেন্স এর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। খারাপ কাজ করলে তার শাস্তি পেতে হবে। ভালো কাজ করলে তার জন্য ধন্যবাদ পেলেই বাজার ভালো হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদাহরণ টেনে ডিএসইর এ চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যেমন ১২ লাখ কোটি টাকা আছে। ঠিক তেমনই বিএসইসির কাছেও ১২ হাজার কোটি টাকা আনতে হবে। তাহলেই পুঁজিবাজার উন্নত রাষ্ট্র গঠনে বড় ভ‚মিকা পালন করতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে আমি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে দেখছি। এ কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ বাজারের জন্য কার্যকর ভ‚মিকা রাখছে। তারা মাত্র ৪ মাসেই বাজারের জন্য অনেক ভূমিকা রেখেছেন। তবে এখনো কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এগুলো সমাধানে তাদের কিছুটা সময় দিতে হবে। তিনি বলেন, শেষ ২ কার্যদিবস সূচক কমেছে। কিন্তু লেনদেন বেড়েছে। এটাই বাজার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এমনটি হয়। এখন কমতি দরে বিনিয়োগকারীরা ক্রয় বাড়িয়েছেন। তবে এর আগে কৃত্রিমভাবে সূচক উঠানো-নামানোর কাজ করা হতো। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) স্টক এক্সচেঞ্জের হাতে দেয়ার জন্য বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে আহ্বান করেছেন রকিবুর রহমান। এছাড়া লেনদেন টি+১ এ আনার আহŸান করেছেন। এতে করে লেনদেন অনেক বেড়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বিনিয়োগকারী শিক্ষা ও সুরক্ষার গুরুত্ব এবং বিনিয়োগকারী সচেতনতা ও শিক্ষা বিষয়ে সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রকদের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্ব সৃষ্টি করাই ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্দেশ্য। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উদ্যোগে তৃতীয়বারের মত গত ৫ অক্টোবর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর