আজ ৯ আষাঢ়, ১৪২৮, ২৩ জুন, ২০২১

গাইবান্ধায় তৃতীয় দফা বন্যার আরও অবনতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে বইছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তৃতীয় দফা বন্যার কারণে আরও ৭টি ইউনিয়নসহ জেলার ৬ উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, কঞ্চিবাড়ী, শ্রীপুর, চন্ডিপুর, কাপাশিয়া ও শান্তিরাম ইউনিয়ন, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, উডিয়া, উদাখালী, গজারিয়া, ফুলছড়ি, এড়েন্ডাবাড়ী ও ফজলুপুর ইউনিয়ন, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, সাঘাটা, ঘুড়িদহ, হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়ন, সদর উপজেলার কামারজানী, মোল্লারচর, খোলাহাটী, গিদারী, মালিবাড়ী, ঘাগোয়া ও বল্লমঝাড় ইউনিয়ন, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম, কামারপাড়া, রসুলপুর ইউনিয়ন, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর, ফুলবাড়ী, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ, দরবস্ত ও শালমারা ইউনিয়ন এবং পোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা। বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধপানি, জ্বালানি সংকট এবং পয় নিস্কাশনের সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগ। তারা ২৬ জুন থেকে শুক্রবার ২৪ জুলাই পর্যন্ত ২৯ দিন ধরে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নে পানিতে ডুবে এক প্রতিবন্দির মৃত্যু হয়েছে।
দীর্ঘ মেয়াদী বন্যায় অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে গবাদিপশু নিয়ে উঁচু বাঁধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। তারা পলিথিনের খুপড়ি ঘর তুলে সেখানে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সেখানেও বিশুদ্ধ পানি ও পয় নিস্কাশন সমস্যা রয়েছে। এছাড়া গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও কর্মের অভাবে গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে তাদের দিন কাটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি শুক্রবার বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৯৭ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি আগামী ৪ থেকে ৫ দিন থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ.কে.এম ইদ্রিস আলী জানান, বন্যা কবলিত ৩৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৩৬ হাজার ৫৭৯ পরিবারের ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫৬ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৮৭৫টি। সড়ক ও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৩ দশমিক ৪৫৬ কিলোমিটার। তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের জন্য ১৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হায়েছে। এরমধ্যে ৯২টি আশ্রয় কেন্দ্র ১৭ হাজার ৭৫৫ জন আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে উঁচু বাঁধ ও সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এই বিভাগের আরও খবর